দু’পাশের রেলিং নেই। স্লাবের মাঝখানে ভেঙ্গে পড়েছে। বের হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ রড। দুপাশের সংযোগ সড়কও নেই তেমন। সেতুতে উঠলে গা ছিমছিম করে। এ এক ভয়ঙ্কর সেতু। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের দিগদারী বিলের উপর এ সেতুর উপর দিয়ে ১০ বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়ন এবং ভিতরবন্দ ইউনিয়নের একটি সংযোগ সড়কে দিগদারী বিলের উপর ১৯৭৭ সালে ইউপি চেয়ারম্যান কাঠের ব্রীজ নির্মাণ করলে সেই থেকে কাঠের ব্রীজ নামে পরিচিতি পায়। ১৯৮৭ উপজেলা পরিষদ ওই স্থানে ফুট ব্রীজ নির্মান করে। সেটি ২০০১ সালে মেরামত করে এলজিইডি। ২০০৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ঝাকুয়াবাড়ী রাস্তা ও সেতুটি খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তারপর থেকেই আর নজর দেয়নি কেউ ।

দু’টি ইউনিয়নের ১৯ গ্রামের ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ চলাচল করে। প্রায় ১০ বছর আগ থেকেই সেতুটি চলাচলে ঝুকিপূর্ণ হয়ে গেছে। সেতুটির স্লাবের মাঝের অংশ ছাড়াও দুই পাশের রেলিং ভেঙ্গে রড বের হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দেখলে ভয় লাগে। দিগদারী জামে মসজিদের ঈমাম কারী আজগার আলী জানান, কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ১৬টি ও ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ৩টি গ্রামের মানুষ ঝুকি নিয়ে এ ভাঙ্গা সেতু পাড়াপাড় হচ্ছে। প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগেই আছে।

ঝাকুয়াবাড়ী গ্রামের রিকসা চালক, সোলদার আলী বলেন, সেতুটির জন্য দুই মাইল ঘুরে ভিতরবন্দ বাজারসহ উপজেলা-জেলা শহর যেতে হয়। মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালক রুহুল আমিন বলেন, দীর্ঘ ১০বছর ধরে সেতুটির উপরের স্লাব ভেঙ্গে গিয়ে এখন মানুষের যাতায়াতে অযোগ্য হয়ে পরেছে। এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যানসহ এমপি সাহেবকে বলেছি। তারা শুধু আশ্বাসই দিচ্ছেন।

সেতুটির পুর্ব পাড়ের বাসিন্ধা ভিতরবন্দ ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দার হোসাইন জানান, সেতুটি দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া আসা করা যায় না। ওপারে এক বাড়ীতে মোটরসাইকেল রেখে মাদরাসায় যেতে হয়। কলেজ ছাত্র আরিফুল ও মশিউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা ভয়ে সেতুর উপর দিয়ে যায় না। রডগুলো বের হয়ে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। রেলিং নেই। উপরে উঠলে মনে হয় পড়ে যাই। দ্রুত সেতুটি নির্মানের দাবী জানান তারা।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুল ইসলাম জানান, ২০০৮ সালের বন্যায় ঝাকুয়াবাড়ী রাস্তা ও সেতুটি খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সেই থেকে আর মেরামত করা হয়নি। ফলে এখন যানবাহন তো দুরের কথা মানুষ পায়ে হেঁটে যেতেও ভয় পায়।

কালীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান ব্যাপারী জানান, ভিতরবন্দ ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকবার উপজেলা পরিষদ মিটিংয়ে সেতুটি নির্মানের প্রস্তাব করেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রকৌশলী ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী বাদশা আলমগীর বলেন, দিগদারী বিলের উপর ব্রীজ করার জন্য একটি প্রাক্কলন অনুমোদনের জন্য এলজিইডি‘র প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য