গত মাসে ফ্লোরিডা হাইস্কুলে গুলির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ডাকে অস্ত্র আইন কঠোর করার দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজার হাজার তরুণ বিক্ষোভ করেছে।

‘কখনোই নয়’ স্লোগান সামনে রেখে শনিবারের এ বিক্ষোভগুলোতে তরুণ মার্কিনিদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবক ও সমর্থকরাও অংশ নেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

দেশটিতে কয়েক দশকের মধ্যে সর্ববৃহৎ এ ছাত্র জমায়েত থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আইনপ্রণেতাদের প্রতি অস্ত্র আইন নিয়ে সরব হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশগুলোতে ভোটার নিবন্ধকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মত; একদিনেই সারাদেশ থেকে কয়েক হাজার নতুন ভোটার নিবন্ধন করার সুযোগ হাতছাড়া করেনি তারা।

‘মার্চ ফর আওয়ার লাইভস’ নামের এ কর্মসূচির সবচেয়ে বড় জমায়েত হয়েছে ওয়াশিংটনে।

১৪ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ডের মার্জরি স্টোনম্যান ডগলাস হাইস্কুলের ‍গুলির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে এদিন বিক্ষোভকারীরা শহরটির পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউর রাস্তায় জমায়েত হয়।

মার্জরির বেঁচে যাওয়া শিক্ষার্থী এমা গনজালেজ যখন স্কুলে গুলির ঘটনায় নিহত ১৭ জনের নাম পড়ছিলেন, অনেকের চোখই তখন ছিল অশ্রুসিক্ত। নাম পড়ার পর কিছু সময় নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি, তার গাল বেয়ে অশ্রুধারা ঝড়ে পড়ছিল।

এ সময় উপস্থিত বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ‘কখনোই নয়’, ‘কখনোই নয়’ শ্লোগান তুললেও অধিকাংশজনই নিরবতা পালন করেন।

ফের বক্তৃতা দেওয়ার শুরু করেন গনজালেজ, এ সময়ও তার চোখ বারবার ভিজে উঠছিল। তার বক্তৃতা শেষ হয় ৬ মিনিট ২০ সেকেন্ডে, ফ্লোরিডার স্কুলে ঢুকে তাণ্ডব চালাতে ঠিক এ সময়টুকুই নিয়েছিল ওই হত্যাকারী।

আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে আইনী জট খোলার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা; তাদের ভাষ্য, অস্ত্রের সহজলভ্যতাই পার্কল্যান্ডে স্কুলে গুলির ঘটনার মতো অসংখ্য ভীতিকর ঘটনার জন্ম দিচ্ছে।

“রাজনীতিবিদরা, হয় আপনারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করুন, নাহলে বেরিয়ে যান। হয় আমাদের সঙ্গে দাঁড়ান, নাহলে ভীত হন। ভোটাররা আসছে,” বলেন মার্জরি স্টোনম্যান ডগলাস স্কুলের ১৭ বছরের শিক্ষার্থী ক্যামেরন ক্যাসকি।

বেঁচে যাওয়া আরেক শিক্ষার্থী ডেভিড হগ বিক্ষোভের দিনটিকে ‘নতুন দিন’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন।

“সেরা মানুষগুলোই যেন নির্বাচনে জেতে তা নিশ্চিত করতে কাজ করবো আমরা; তারা কেবল রাজনীতিবিদই হবে না, হবেন আমেরিকান। কারণ এটি (অস্ত্র বিক্রি) কমাতে পারছে না,” মঞ্চের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির কেন্দ্র সাদা ক্যাপিটল ভবনের দিকে আঙ্গুল তুলে বলেন হগ।

ওয়াশিংটনের পাশাপাশি আটলান্টা, বাল্টিমোর, বস্টন, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলস, মিয়ামি, মিনিয়াপোলিস, নিউ ইয়র্ক, সান ডিয়াগো ও সেইন্ট লুইসসহ অসংখ্য শহরে শিক্ষার্থীদের এ ধরনের বড় বড় বিক্ষোভের খবর দিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো।

দেশটির সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অনেককেও এসব বিক্ষোভে সংহতি জানাতে দেখা গেছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তার স্ত্রী মিশেল ওবামা টুইটারে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

“চালিয়ে যাও। তোমরাই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে নেবে; লাখ লাখ মানুষের পরিবর্তনের দাবির সামনে কোনোকিছুই দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না,” বলেন ওবামা।

আয়োজকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও এর বাইরে লন্ডন, মরিশাস, স্টকহোম, সিডনিসহ বিভিন্ন শহরে ৮০০’রও বেশি বিক্ষোভ তাদের তালিকায় রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের এ অবস্থানের বিরুদ্ধ প্রতিক্রিয়াও দেখা সগেছে অনেক স্থানে। অনেকেই সংবিধানে থাকা বন্দুক বহনের অধিকার বহাল রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন।

“বন্দুক মানুষ হত্যা করে না, মানুষই মানুষ হত্যা করে,” বলেন ক্যালিফোর্নিয়ার সান লুইস অবিস্পোর ১৬ বছর বয়সী কনর হামফ্রে। এসময় তার পরনে ছিল ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ লেখা টি-শার্ট।

শিকার করার জন্য নিজের কাছে বন্দুক রাখার কথা জানান হামফ্রে।

“শিক্ষকদের হাতেও বন্দুক দেওয়া উচিত,” স্কুলে গুলির ঘটনা ঠেকাতে ট্রাম্পের করা মন্তব্যের পুনরুক্তি শোনা যায় তার মুখে।

নিউ ইয়র্কে অসংখ্য ট্রাম্প সমর্থককে ছাত্র বিক্ষোভের পাল্টায় ‘কিপ আমেরিকা আর্মড’ ও ‘রি-ইলেক্ট ট্রাম্প ২০২০’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা গেছে।

হোয়াইট হাউস তরুণ আমেরিকানদের ‘বাক স্বাধীনতা প্রদর্শনের’ এ বিক্ষোভকে স্বাগত জানিয়েছে।

“আমাদের সন্তানদের নিরাপদ রাখা প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার তালিকায় আছে,” বলেছেন হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি লিন্ডসে ওয়াল্টারস।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য