হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রাম নবমী উৎসবের দিন দেশীয় ঐতিহ্যবাহী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শোভাযাত্রা করার ঘোষণা দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গ শাখা।

রোববার সকালে হাওড়া এবং বিকালে খড়গপুরে শোভাযাত্রা দুটি হবে বলে নিশ্চিত করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রধান দিলীপ ঘোষ।

শোভাযাত্রাগুলোর আগে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে; মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক থাকর নির্দেশ দিয়েছেন বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

শনিবার রাতে বর্ধমানে রাম নবমীর এক প্যান্ডেলে হামলার ঘটনায় চারজনের আহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে। হামলার জন্য তৃণমূল কর্মীদের দায়ী করেছে বিজেপি।

পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআই।

সাধারণ নির্বাচনের আগের বছর তরুণদের ভোট টানতে বিজেপির পাশাপাশি রাম নবমীতে শোভাযাত্রার ঘোষণা এসেছে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের কাছ থেকেও।

হাওড়াতে মন্ত্রী অরূপ রায় ওই বিক্ষোভের নেতৃত্বে থাকবেন।

“আমরা অস্ত্র কিংবা ধর্মীয় অনুষঙ্গ বহন করবো না। আমরা জনগণকে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার কথা বলবো,” শোভাযাত্রার আগের দিন বলেন এ তৃণমূল নেতা।

রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতা দিলীপ জানান, কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গ্রাম এলাকাতেও শোভাযাত্রা করে রাম নবমী উদযাপনের পরিকল্পনা আছে তাদের।

“কলকাতাতেই পাঁচ থেকে ছয়টি বড় শোভাযাত্রা হবে। পাশাপাশি বড় বড় শহর, জেলা কার্যালয় এবং গ্রামেও একইরকম উদ্দীপনা নিয়ে শোভাযাত্রা হবে,” বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে বলেছেন তিনি।

হাওড়াতে তৃণমূলের শোভাযাত্রার পরিকল্পনা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন বিজেপির এ রাজ্যপ্রধান।

“এ উদযাপনের বিপক্ষে ছিল যারা, তারাও এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন আদায়ের জন্য রাম নবমী পালনে উৎসাহী,” বলেন তিনি।

শনিবার বোলপুরের এক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যয় রাম নবমীর শোভাযাত্রার নামে কোনো ধরনের ‘গুন্ডামি বরদাশত’ করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

“আমি জানি হাওড়া এবং আসানসোলের অল্প কয়েকটি সংগঠন রাম নবমীতে অস্ত্র নিয়ে শোভাযাত্রা করে। দশকেরও বেশি সময় ধরে যারা ঐতিহ্যবাহী এ কর্মসূচি পালন করে আসছে তাদেরকে অস্ত্র নিয়ে শোভাযাত্রার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হবে।

“কাউকে প্রথমবারের মত এ ধরনের কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেবেন না। আমরা সংগঠনগুলোর রাম নবমী উদযাপনের বিরোধী নই, তবে সেগুলো হতে হবে শান্তিপূর্ণ,” বলেন মমতা।

মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের পুলিশপ্রধান সুরজিৎ কর পুরকায়স্থকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি উদযাপনের নাম করে কেউ সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে স্থানীয়রাই যেন সজাগ হয়ে পুলিশে খবর দেয় সে বিষয়ে উৎসাহ দিতে পরামর্শ দিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য