কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে অজ্ঞাত এক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ১৩ সদস্যকে হত্যা করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

হামলার মুখে পড়ার পর পাল্টা হামলায় তারা এসব বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে বলে শনিবার জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীটি, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট যোশেফ কাবিলা ২০১৬ সালে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা আকড়ে থাকেন। এতে দেশজুড়ে অস্থিরতা ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

এই অস্থিরতাই সম্প্রতি দেশটির ইতুরি প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রদেশটির বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে।

দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জুলেস এনগোনগো জানিয়েছেন, জেমি ও পেনাই গ্রামের কাছাকাছি দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে। এ সময় এক সৈন্য নিহত ও অপর দুজন আহত হয়েছেন।

“তল্লাশি অভিযান এখনো চলছে। মৃতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে,” বলেছেন তিনি।

কঙ্গোর নৃগোষ্ঠীগত জটিলতার মধ্যে ইতুরিতে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। ১৯৯৮ সালে দেশটির যেসব এলাকায় গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল তার মধ্যে ইতুরি অন্যতম।

পাঁচ বছর ধরে চলা ওই গৃহযুদ্ধে প্রতিবেশী উগান্ডা ও রোয়ান্ডার সৈন্যরাও জড়িয়ে পড়েছিল। ওই যুদ্ধে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিল। এদের অধিকাংশই অনাহারে ও অসুখে ভুগে মারা যান।

দেশটি ফের ওই ধরনের সহিংস পরিস্থিতির দিকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

প্রায় এক দশক তুলানামূলক শান্ত সময় কাটানোর পর চলতি বছর দেশটির কৃষিজীবী লেনদু নৃগোষ্ঠীর সঙ্গে পশুপালক হেমা নৃগোষ্ঠীর সহিংসতা শুরু হয়। দুটি গোষ্ঠী হত্যা-পাল্টা হত্যায় মেতে উঠলে সরকারের কর্তৃত্ব প্রায় ভেঙে পড়ে। ভূমির অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধ মিমাংসা করতে সরকারের ব্যর্থতাও এর জন্য আংশিকভাবে দায়ী।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতুরির আগের লড়াইগুলোর জন্য দায়ী উভয়পক্ষের যুদ্ধবাজ নেতাদের অপরাধী সাব্যস্ত করলেও এতে পরবর্তী সহিংসতা ঠেকানো যায়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য