বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদাতা: দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ভূল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যুর পর বাকী টাকার জন্য প্রসুতিকে আটক রাখার অভিযোগ উঠেছে। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু এবং বাকী টাকার জন্য প্রসুতি মোছা. মুক্তা বেগম (২৩)কে আটক রাখা হয়েছে এমন দাবী নবজাতকের পিতা এবং প্রসুতির স্বামী মো. অহেদ আলীর।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ নিজ উদ্যোগে যানবাহনের ব্যবস্থা করে প্রসুতি এবং তার পরিবারের লোকজনদের বাড়ী প্রেরণ করে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বীরগঞ্জ পৌর শহরের মর্ডান ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনিষ্টক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ক্লিনিকের লোকজন পালিয়ে যায়।

নিহত নবজাতকের বাবা মো. শাহেদ আলী জানান, স্ত্রী মোছা. মুক্তা বেগম ৮মাসের গর্ভবতী। গত বুধবার বিকেলে চিকিৎসক দেখানোর বীরগঞ্জ পৌর শহরের মর্ডান ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনিষ্টক সেন্টারে নিয়ে আসি। এ সময় ক্লিনিকের লোকজন জরুরী সিজার করতে হবে বলে জানায়।

আমাদের প্রস্তুতি না থাকা সত্বেও প্রসুতিকে ভর্তি করেন এবং রাত সাড়ে ১২টায় সিজারের মাধ্যমে কন্যা সন্তানের জন্ম নেয়। কিন্তু কিছু ক্ষণের মধ্যে শিশুটি মারা যায়। বৃহস্পতিবার শিশুটিকে দাফন করে ক্লিনিকে আসলে ক্লিনিক কর্তৃক বাকী টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এক পর্যায়ে স্ত্রীকে মোছা. মুক্তা বেগমকে আটকে রাখে। পরে শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় নেতা এবং পুলিশের সহায়তায় মুক্ত হয়ে বাড়ী ফিরে আসি।

এ ব্যাপারে মর্ডান ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনিষ্টক সেন্টারে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সকলেই পালিয়ে গেছে বলে উপস্থিত রোগীর লোকজন জানান।

বীরগঞ্জ থানার এসআই মো. মশিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংবাদ পাওয়ার পর ক্লিনিকে গিয়ে পুলিশ রোগীর পরিবারসহ রোগীকে বাড়ী প্রেরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তবে এ ব্যাপারে রোগীর লোকজন লিখিত ভাবে অভিযোগ করার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য