কাশ্মিরে বিদ্রোহী দমনের নামে পরিচালিত ভারতীয় বাহিনীর নিরাপত্তা অভিযানে দুই পক্ষের ১০ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ২ জন জঙ্গি দমনে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ আর ৩ জন সেনা সদস্য। অপর ৫ জনকে পুলিশ জঙ্গি আখ্যা দিলেও তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানায়নি।

বন্দুকধারীদের পক্ষে এখনও কোনও বিদ্রোহী সংগঠন এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। বন্দুকযুদ্ধ শেষ হলেও সেখানে নিরাপত্তা তল্লাশি চলমান থাকার কথা জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র।

কাশ্মিরে সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর কেউ কেউ সরাসরি স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত। কেউ কেউ আবার কাশ্মিরকে পাকিস্তানের অঙ্গীভূত করার পক্ষে। ইতিহাস পরিক্রমায় ক্রমেই সেখানকার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইসলামীকিকরণ হয়েছে। এখন সেখানকার বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর মধ্যে হিজবুল মুজাহিদীন সবথেকে সক্রিয়।

তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাশ্মিরের জাতিমুক্তি আন্দোলনকে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী তৎপরতার থেকে আলাদা করে শনাক্ত করে না। সন্দেহভাজন জঙ্গি নাম দিয়ে বহু বিদ্রোহীর পাশাপাশি বেসামরিকদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে।

কাশ্মির সীমান্তে ভারত-পাকিস্তানের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার (২০ মার্চ) শ্রীগনরের ৯৫ কিলোমিটার উত্তরের কুপওয়ারা এলাকায় জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরু করে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী।

ভারতীয় পুলিশ সূত্রের দাবিকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী কুপওয়ারা এলাকার একটি জঙ্গলে তল্লাশি অভিযান চালাতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিরাপত্তা সূত্রকে উদ্ধৃত করে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতভর চলা বন্দুকযুদ্ধে বিদ্রোহীদের ৩ জন নিহত হয়।

বুধবার নিহত হয় আরও ২ বিদ্রোহী। একইদিনে বিদ্রোহীদের গুলিতে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ৫ সদস্যও নিহত হয়।

কুপওয়ারার সিনিয়র পুলিশ সুপার শমসের হুসেইনের দাবি, মঙ্গলবার (২০ মার্চ) কুপওয়ারার একটি জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় তাদের উপর হামলা করে জঙ্গিরা। পরে বন্দুকযুদ্ধে ‘পাঁচ সশস্ত্র জঙ্গিকে’ হত্যা করে ভারতীয় সেনারা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে তিনি জানান, মঙ্গলবার থেকে এ বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয় এবং তা বুধবার পর্যন্ত গড়ায়। বুধবার সন্ধ্যায় বন্দকযুদ্ধ শেষ হয়। শমসের বলেন, ‘বন্দুকযুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচ সদস্য এবং পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়েছে। অভিযান শেষ হয়েছে। আমরা এখন এলাকাটি পরিষ্কার করছি।’

কাশ্মিরের পুলিশ প্রধান এস.পি. বৈদ্যকে উদ্ধৃত করে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি জানায়, কুপওয়ারার জঙ্গল এলাকায় বিদ্রোহীরা লুকিয়ে আছে; এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার একটি গ্রাম ঘেরাও করে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। বৈদ্য জানান, দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে তিন বিদ্রোহী এবং বুধবার আরও দুই বিদ্রোহী নিহত হয়। আর ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ৫ সদস্য নিহত হয়েছে বুধবার। বন্দুকযুদ্ধে আরও অন্তত তিন পুলিশ কর্মকর্তা ও এক সেনা আহত হয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে।

আল জাজিরা জানায়, নিহত বিদ্রোহীদের পরিচয় জানা যায়নি। এখন পর্যন্ত কেউ হামলার দায়ও স্বীকার করেনি।

১৯৪৭ সালে উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন শেষ হওয়ার পর থেকেই জম্মু ও কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান দুবার মুখোমুখি যুদ্ধে জড়িয়েছে। ১৯৪৭ ও ১৯৬৫ সালে উপমহাদেশের পারমাণবিক শক্তিধর দেশ দুটি যুদ্ধে লিপ্ত হয়। সম্প্রতি ওই এলাকায় বেড়েছে গোলাগুলির ঘটনা। গত মাসে কাশ্মিরে একটি ভারতীয় সেনা ক্যাম্পে হামলায় ছয় সেনা সদস্য নিহত হওয়ার পর থেকে চিরবৈরী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা চলছে। এ হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে আসছে ভারত। এর জন্য পাকিস্তানকে মূল্য দিতে হবে বলেও সতর্ক করে দেশটি।

এর আগে গত ১৮ মার্চ ভারত-পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণরেখায় পাকিস্তানি সেনাদের শেলের আঘাতে ভারতীয় এক পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হয়। আহত হয় আরও দুজন।পাকিস্তান বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ করে আসছে ভারত। আর পাকিস্তান বরাবরই সে অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য