যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সফররত সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।

তাদের মঙ্গলবারের এই আলোচনায় ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী ও ইরানের তৎপরতা এবং দেশটিতে বিরাজমান মানবিক সংকট প্রাধান্য পায় বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

বুধবার এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস বলেছে, “ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষী দলের সহায়তায় হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেন অঞ্চলে যে হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ও ক্রাউন প্রিন্স।

“মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় অরো অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন তারা এবং ইয়েমেনি জনগণের প্রয়োজন মেটাতে লড়াইয়ের আশু রাজনৈতিক সমাধান দরকার বলে একমত হয়েছেন।”

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর হাদিকে হুথিরা ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করার পর ২০১৫ সালে প্রতিবেশী ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী।

ইয়েমেনের যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার লোক নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

ইয়েমেনের লড়াইয়ে সৌদি হস্তক্ষেপের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই সমর্থনের ইতি টানার একটি প্রস্তাব উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে। সৌদি আরবের হস্তক্ষেপের কারণে ইয়েমেনে ‘মানবিক বিপর্যয়’ সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রস্তাবটিতে অভিযোগ করেছিলেন কিছু মার্কিন আইনপ্রণেতা।

কিন্তু মঙ্গলবার সিনেটের ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস আইনপ্রণতাদের কাছে আবেদন করে এই প্রস্তাবটি না তুলে সৌদি আরবের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সমর্থনের পক্ষাবলম্বন করার অনুরোধ করেছিলেন।

বুধবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটনের মিস্ক আর্ট ইনিস্টিটিউটের (প্রিন্স মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন এই ইনিস্টিটিউটটির প্রতিষ্ঠাতা) একটি অনুষ্ঠান চলার সময় প্রতিবাদকারীদের ছোট একটি দল ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায়।

কেনেডি সেন্টারের ওই অনুষ্ঠানে এক নারী প্রতিবাদকারী ‘নিরপরাধ শিশুদের হত্যা বন্ধ কর’ বলে চিৎকার করাকালে নিরাপত্তা রক্ষীরা তাকে সরিয়ে নেন।

অনুষ্ঠানটিতে প্রিন্স মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন কি না তা পরিষ্কার হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য