ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রেইডম্যানকে ‘সান অব এ ডগ’ বলে অভিহিত করেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেম নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। সোমবার রামাল্লায় ফিলিস্তিন নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আব্বাস বলেন, ‘‘তেল আবিবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত একজন দখলদার ও ‘সান অব এ ডগ’’। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। এরপর বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে আব্বাসের সরকারের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক ভেস্তে যায়।

ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী ফ্রেইডম্যানকে গত বছর ইসরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি নিজেও একজন ইহুদি। আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হলেও তিনি ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কট্টর সমর্থক। এর আগে সোমবার তিনি এই টুইট বার্তায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করায় আব্বাস এমন মন্তব্য করেছেন।

শুক্রবার ফিলিস্তিনিদের গাড়িচাপায় দুইজন ও রবিবার ছুরিকাঘাতে এক ইসরায়েলি সেনা নিহতের ঘটনা তুলে ধরেন। টুইট বার্তায় ফ্রেইডম্যান পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল উল্লেখ করে এ ঘটনায় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি লেখেন, ‘এমন নিষ্ঠুরতা আর ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের কোনও নিন্দা নেই!’

মার্কিন দূতাবাসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ফ্রেইডম্যান আব্বাসের মন্তব্যকে ‘অ্যান্টিসেমিটিক’ ধারণা বলে চিহ্নিত করেছেন। ফ্রেইডম্যান বলেন, ‘‘আমাকে নিয়ে মন্তব্য হলো ‘সান অব এ ডগ’। এটা কি এন্টিসেমিটিক অথবা রাজনৈতিক বক্তব্য? আমি এটা আপনাদের ওপর ছেড়ে দিলাম।’’

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ট্রাম্পে দূতাবাস স্থানান্তরের পদক্ষেপে আব্বাসের ‘মাথা নষ্ট হয়ে গেছে’। এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, এই দশকে প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রশাসন ফিলিস্তিনি নেতাদের চাটুকারিতা বন্ধ করেছে আর বলেছে, যথেষ্ট হয়েছে। এই সত্যের আঘাতে তারা পাগল হয়ে গেছেন।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য