কয়েকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর উত্তর আমেরিকায় চালকবিহীন গাড়ির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বাতিল করেছে পরিবহণ কোম্পানি উবার। সর্বশেষ গত রবিবার রাতে যু্ক্তরাষ্ট্রের আরিজোনার টেম্পেতে চালকবিহীন গাড়ির ধাক্কায় এক নারীর মৃত্যুর পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

অনেক দুর্ঘটনায় চালকবিহীন গাড়ির জড়িত থাকলেও এবারই প্রথম স্বয়ক্রিয় গাড়ি প্রাণঘাতি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী হিসেবে ভাবা হলো। উবারের প্রধান দারা খোশরোশাহি বলেন, মৃত্যু ‘ভয়ঙ্কর রকমের দুঃখজনক সংবাদ’।

রবিবার রাতের ওই দুর্ঘটনা সম্পর্কে ‍পুলিশ বলছে, ঘটনার সময় গাড়িটি স্বয়ংক্রিয় অবস্থায় ছিল। আর চাকার পেছলে একটি মানুষ পর্যবেক্ষকও ছিল। ইলাইনি হার্জবার্গ নামের ওই নারী তখন রাস্তাও পার হচ্ছিলেন না। ধাক্কা লাগার পর স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসড়ক যানবাহন নিরাপত্তা প্রশাসন ও জাতীয় পরিবহণ নিরাপত্তা বোর্ড বলছে, তারা টেম্পেতে তদন্ত দল পাঠাচ্ছে।

ফোর্ড, জেনারেল মোটরস, টেসলা ও ওয়াইমোসহ বিভিন্ন কোম্পানি চালকবিহীন গাড়ি উদ্ভাবনের জন্য প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করছে। মাঝে মাঝে এই গাড়িকে ভবিষ্যত শিল্প হিসেবে বর্ণনা করা হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যে এই নতুন প্রযুক্তির গাড়িকে স্বাগত জানানো হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে একটি সতর্কতাও রয়েছে। তা হলো প্রযু্ক্তিটি পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগেই ব্যবহার করা হচ্ছে।

বারাক ওবামা প্রশাসনের পরিবহণমন্ত্রী অ্যান্থনি ফক্স এসব দুর্ঘটনাকে পুরো স্বয়ংক্রিয় যানবাহন শিল্পের প্রতি একটি সতর্ক হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। এছাড়া সরকারকেও সবার আগে নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যু্ক্তরাষ্ট্রের ১২টির বেশি রাজ্যে স্বল্পমাত্রায় স্বয়ংক্রিয় চালকবিহীন গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে কোনও খারাপ কিছু হওয়ার সময় গাড়ির মধ্য থেকে একজন বা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তা ঠেকানোর ব্যবস্থা রাখার বিষয়ে জোর দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য