সুবল রায়, বিরল (দিনাজপুর) থেকেঃ যখন গ্রাম বাংলা থেকে যাত্রা, পালাগান এবং সার্কাসের মতো বিনোদনের মাধ্যম গুলি হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন দিনাজপুর জেলায় বিরল উপজেলায় বাজনাহার- ধুকুরঝাড়ী পশু মেলায় আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রম ধর্মী এক সার্কাসের। যেখানে পল্লী গ্রামের নারী-পুরুষ কর্ম ব্যস্ততা জীবনের মাঝে ফিরে পেয়েছেন বিনোদনের সুষ্ঠ খোরাক। যে বিনোদনের মধ্যে নেই কোন অশ্লিলতা, মাদক কিংবা হাউজি, জুয়া।

যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের রুচি বদলেছে। প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে মেলা গুলিতে যোগ হয়েছে যাত্রা ও সার্কাসের নামে অশালিন নাজ-গান আর জুয়া এবং মাদকের চড়াছড়ি। মেলা গুলিতে স্ব-পরিবারে আনন্দ উপভোগ করার জায়গা হয়না। ভাই বোন ও কাকা কাকীদের সাথে নিয়ে মেলা দেখার পরিবেশ থাকেনা। কিন্তু দিনাজপুরের বিরলে বাজনাহার- ধুকুরঝাড়ী পশু মেলায় দি-গ্রেট রওশন সার্কাসে নেই কোন অশ্লিল এর ছোয়া। তাই এই মেলার সার্কাসে পুরুষ থেকে নারী দর্শকের সংখ্যা বেশী। বহু দিন পর যেন মেলার পরিবেশে ফিরে এসেছে প্রাণ। এলাকার মানুষ তাই স্ব-পরিবারে উপভোগ করেছেন সার্কাস সহ নানান খেলা। তারা খুবেই আনন্তিত।

মেলার দি-গ্রেট সার্কাসের সত্যাধিকারী আফতাব হোসেন বলেন, আমাদের ১০৬ জন খেলোয়ার। যেখানে রয়েছে শিশু থেকে নানা বয়সী খেলোয়ার। শারীরিক কষরত, ভারসাম্য ফ্লাইং রাইড, ঝুলন্ত-উড়ন্ত নানা ধরণের খেলা। তারের উপর দিয়ে হেটে যাওয়া, খাচার ভিতর মটর সাইকেল চালনা করা সহ বিভিন্ন শ্বাষ রুদ্ধকর খেলা দেখিয়ে থাকে খেলোয়াররা।

আরো রয়েছে হাতি, ঘোড়া, গাধা আর রাম ছাগল সহ নানা জীব- জন্তুর উপোভোগ করার মতো সুন্দর সুন্দর খেলা। এখানে তারকা শিল্পীরা এসে গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে, অভিনয় করে এবং গান গেয়ে শোনায়। যা দর্শকদের আনন্দ দেয়। কর্ম ব্যস্ততম জীবনে একটু বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে। মানুষ বিনোদনের মাধ্যমে ফিরে পায় তার চালিকা শক্তি। প্রায় বছরের পর বছর থেকে চলে আসছে এই পুরাতন মেলা। আমাদের দি-গ্রেট রওশন সার্কাসে কোন প্রকার অশ্লিলতার ছোয়া নেই। এখানে পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে এক সাথে দেখতে পারে।

দিনাজপুর জেলা সদর থেকে পশ্চিমে বিরল-বোচাগঞ্জ সড়কের ধুকুরঝাড়ী নামক স্থানে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই মেলা সুষ্ঠ ভাবে পরিচালনা করার জন্য মেলা কমিটি ও সার্কাস কর্তপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেছেন। আরো কামনা করেছেন একটি সুন্দর ও সুষ্ঠ অশ্লিলতা বিহীন পরিবেশ।

চিত্র নায়ক শ্রাবন ও নাইকা নাসরীন বলেন, প্রত্যাক মানুষের বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে। প্রত্যেকটি মানুষের মনে একটি সংস্কৃতি প্রবাহ আছে। এটাকে খারাব বা ভালো করার দায়িত্ব আমাদের। আমরা যদি একটু সচেতন হই আমাদেও সাংস্কৃতি বিনোদনকে সুষ্ঠ ধারায় নিয়ে যেতে পারবো।

এদিকে মেলা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোমতাজ আলী, কোষাধ্যক্ষ রায়হান সরকার রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক তাজমুল ইসলাম বলেন, আমাদের এই মেলাটি অনেক পুরনো। এর ঐতিয্যকে ধরে রাখতে প্রতি বছরে আমরা এর আয়োজন করি। দুর দুরান্ত থেকে মেলায় গরু, ঘোড়া, ছাগল, মহিষ বেচা বিক্রি দেধারচে কেনা-বেচা হয়। এছাড়াও বিনোদনের জন্য আছে সার্কাস।

দেশের ঐতিহ্য গ্রাম বাংলার মেলা গুলি। প্রশাসন এই মেলা গুলিকে মাদক, অশ্লিল কর্মকান্ড ও বে-লিল্লা পনা থেকে মুক্ত রাখতে এবং সুষ্ঠ পরিবেশের প্রতি নজর দিবেন এমনটি প্রত্যাশা পল্লী গ্রামের মানুষের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য