বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে চিরিরবন্দরে শ্রেণি পাঠদান বন্ধ থাকায় অভিভাবক, শিক্ষার্থীরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

সরেজমিনে উপজেলার বেসরকারী স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাসহ ১২০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেছে শিক্ষক শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত থাকলেও শিক্ষকদের শ্রেণি পাঠদান বন্ধ রয়েছে। কয়েকজন প্রতিষ্ঠান প্রধান জানান, শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা এ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

রশিদুল হক, ইব্রাহিম হোসেন, খমির উদ্দিন ও শাহজাহান নামে কয়েকজন অভিভাবক জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস না হওয়ায় তাদের সন্তানেরা বাড়িতে বই পড়ছেনা। স্কুলেও যেতে চাচ্ছেনা। পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়ে পড়েছে। সকাল বেলা প্রয়োজনীয় টাকা নিয়ে চাপে পড়ে তারা স্কুলে গেলেও কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে ঘুমিয়ে পড়ছে। বেলতলী বালিকা উচ্চ বিদ্যলয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদ উল আলম জানান, শ্রেনি পাঠদান বন্ধ থাকায় হ্যান্ডবল, ফুটবল খেলা ছাত্রীদের শেখানো হচ্ছে। কিছু মেয়ে শ্রেনিকক্ষে গান করছে।

এভাবেই শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিরিরবন্দর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিন সরকার জানান, শ্রেণি পাঠদান বন্ধ থাকায় উপস্থিতি কমে গেছে। এতে প্রতিষ্ঠানের সহ শিক্ষার্থীদের চরম ক্ষতি হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে সরকারের জাতীয়করণ দাবি মেনে নেয়া প্রয়োজন। কয়েকজন সহকারী শিক্ষক জানান, ক্লাস না হওয়ায় তাদের অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ গোলাম রব্বানী বলেন, গত রবিবার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে।

এছাড়াও কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠান কতৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়িতে চলে গেছেন। অনেক শিক্ষার্থীরা বাজারে ঘোরাফেরা করছে। যা বিরুপ অবস্থার সৃষ্টি করছে। তিনি শিক্ষকদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য