Wall Streetজাতীয় পুরস্কারজয়ী বাঙালি পরিচালক অথবা ‘প্রভাবশালী’ সমকামীপুরুষ–’আম আদমি পার্টি‘তে ক্রমেই যোগদানের প্রবণতা বাড়ছে এলজিবিটিকিউআই সম্প্রদায়ভুক্ত আন্দোলনকারীদের৷ দিল্লি, মুম্বাইয়ে এই প্রবণতা দেখা গেলেও দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ‘প্রাইড ওয়াক’ হয়েছিল যে শহরে, সেই কলকাতার এলজিবিটি সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে আপাতত এই দৃশ্য অমিল৷ সিপিএম ও কংগ্রেস-দু’টি দলই তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে ৩৭৭ বিরোধী অবস্থান নেয়ায় আশাবাদি শহরের আন্দোলনকারীরা৷
’মাই ব্রাদার নিখিল’ ও ‘আই অ্যাম’ খ্যাত চিত্রপরিচালক ওনির, ‘দ্য গার্ডিয়ান’ নির্বাচিত ‘প্রভাবশালী’ সমকামী মুম্বইবাসী সমকামী হরিশ আইয়ার- দেশের সমকাম আন্দোলনের একাধিক পরিচিত মুখেরা একে-একে ‘আপ’-এর সদস্য পদ নিয়েছেন৷
মুম্বাই থেকে ওনির বলেছেন, ‘ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোটের্র ৩৭৭ বিরোধী রায় ঘোষণার পরই সমকাম আন্দোলনের পক্ষেই কথা বলেছিল আপ৷ আপ-কে সামগ্রিকভাবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তুলনায় অনেকটাই উদার বলে মনে হয়৷ সে কারণেই আপ-এ যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷’
মাত্র ৪৯ দিন ক্ষমতায় থাকা আপ-এর দিল্লির কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত মাসে আলোচনায় বসেন ওনির, একাধিক এলজিবিটি-নারীবাদি সংগঠনের বিশিষ্টরা৷ ‘ফেস টু ফেস’ নামে ওই সভায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয় আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচনী ইস্তাহারে এলজিবিটিকিউআই ও ৩৭৭ সম্পর্কে আপ-এর অবস্থান নিয়েও৷ আপ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা মুম্বই (উত্তর-পশ্চিম) কেন্দ্রে প্রার্থী ময়াঙ্ক গান্ধীর কথায়, ‘উদার-আধুনিক দল হিসেবেই আপ-এর যাত্রা শুরু৷ আমরা বিশ্বাস করি, প্রাপ্তবয়স্কের শোওয়ার ঘরে ঢোকার কোনও অধিকার রাষ্ট্রের নেই৷ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের যৌনাচার কী হবে বা না হবে, তা স্থির করার অধিকার একমাত্র সেই ব্যক্তিরই৷’
’বার্তা’-র প্রতিষ্ঠাতা কলকাতাবাসী আন্দোলনকারী তথা ‘প্রাইড ওয়াক’ উদ্যোক্তাদের অন্যতম পবন ঢল অবশ্য সমকামী মানুষের আপ-এ যোগদানের বিষয়টিকে ‘প্রবণতা’ হিসেবে দেখছেন না তিনি৷ পবনের কথায়, ‘ওনিরের আপ-এ যোগদানের বিষয়টি জানি৷ তবে এলজিবিটিকিউআই সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষ বা আন্দোলনকারীরা শুধুমাত্র আপ-এর সমর্থনেই কথা বলছেন, এমনটা মানছি না৷ সম্প্রদায়ভুক্ত অনেকে বিজেপিকেও সমর্থন করছে বলে জানি৷ অথচ বিজেপি নেতৃত্ব সমকাম সম্পর্কে এ যাবত যে সব মন্তব্য করেছেন, তা আদৌ সমর্থনযোগ্য নয়৷’
আপ হোক অথবা কংগ্রেস বা সিপিএম, শীর্ষ আদালতের ভাষায় ‘সংখ্যালঘু’ এলজিবিটিকিউআইদের ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠায় আশাবাদি চিকিৎসক-শিক্ষক তীর্থঙ্কর গুহঠাকুরতা৷ তার উপলব্ধি, ‘রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা বুঝতে পেরেছেন যে, এলজিবিটি মানুষ ও তাঁদের সমর্থকদের ভোটব্যাঙ্ক নির্বাচনের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ৷ ৩৭৭ ধারা পরিবর্তন করতে এই প্রচার বেশ কাজেও লাগবে৷ মানুষ বুঝবেন যে, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের মতো প্রেম, আত্মমর্যাদা ও যৌনতাও মানুষের মৌলিক অধিকার৷ তবে কোনও দল জেতার পর এই মর্মে কতটা কাজ করে, সেটাই এখন দেখার৷’ দেশের প্রথম গে-অ্যাপ ‘গেল্যাক্সি’র প্রধান সম্পাদক বেঙ্গালুরুবাসী সুখদীপ সিং-এর কথায়, ‘কংগ্রেস ও সিপিএম-এর নির্বাচনী ইস্তাহারে ৩৭৭ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল ছাড়া এলজিবিটি নিয়ে তেমন কিছু বলেনি৷ তবে দু’টি ইস্তাহারের সৌজন্যে শেষমেশ রাজনীতির আবর্তে যে বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে, তা অবশ্যই আনন্দের৷

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য