রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। দেশের পূর্ব প্রান্তের দুটি ফেডারেল অঞ্চলে ভোট গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুরু হয়। এবারের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, নির্বাচনে পুতিনের বিজয়ী হওয়া শুধু আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। সর্বশেষ জনমত জরিপেও এর আভাস মিলেছে।

ভ্লাদিমির পুতিন ছাড়া অন্য প্রার্থীরা হচ্ছেন পাওয়েল গ্রোদিনিন, ভ্লাদিমির ঝিরিনোভোস্কি, সের্গেই ব্যাবুরিন, গ্রেগরি ইউলিনেস্কি, বরিস তিতোভ, ম্যাক্সিম সেরিকিন এবং নারী প্রার্থী কিসনিয়া সাবচাক।

নির্বাচনে প্রায় এক লাখ ভোটকেন্দ্রে নিজেদের রায় দেবেন প্রায় ১০ কোটি ৯০ লাখ নিবন্ধিত ভোটার। রাশিয়ান পাবলিক ওপিনিয়ন রিসার্চ সেন্টারের জরিপে দেখা গেছে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আবারও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে চান ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার।

সরকারে পরিবর্তন দেখতে আগ্রহী এমন ব্যক্তিদের মধ্যেও পুতিনের প্রতি এক ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। মস্কোর বাসিন্দা ২৯ বছরের শিল্পী স্লাভা নেস্টেরোভ। তিনি বলেন, ‘ভ্লাদিমির পুতিনকে আমি সম্মান করি। তিনি দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতার হাতবদলের প্রয়োজন রয়েছে।’

নির্বাচন পরিচালনা বিষয়ক কেন্দ্রীয় কমিটি জানিয়েছে, সারাদেশে ৩০ হাজার পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন।

রুশ সংবিধান অনুযায়ী একজন রাজনীতিক ছয় বছরের জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০০৮ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এই মেয়াদ ছিল চার বছর। ওই বছর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের শাসনামলে এই মেয়াদকাল চার বছর থেকে বাড়িয়ে ছয় বছর করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী রাশিয়ায় একজন প্রেসিডেন্ট পর পর দুই দফার বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেন না। প্রেসিডেন্ট পুতিন ২০০০ সালে প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। টানা দুই দফায় আট বছর এই দায়িত্ব পালনের পর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি তিনি।

ওই বছর দিমিত্রি মেদভেদেভ রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পুতিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আবারও জয়লাভ করেন পুতিন। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য