প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বসতি স্থাপন, ইমারত নির্মাণ, কলকারখানা স্থাপন, সড়ক নির্মাণ সহ নানাবিধ কারণেই কৃষি জমির পরিমাণ প্রতিনিয়ত কমছে। জনসংখ্যার বিপরীতে খাদ্য চাহিদা পূরণে প্রতিনিয়তই চ্যালেঞ্জের মূখে বাংলাদেশের মত মধ্যম আয়ের দেশসমূহের উপর খাদ্য চাহিদা পূরণে চাপ বাড়ছে।

এই সমস্যা সমাধান এবং খাদ্য চাহিদা পূরণে চাষাবাদের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে দিনাজপুর আদর্শ মহাবিদ্যালয় থেকে সদ্য বিএসসি(অনার্স) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী মোসাদ্দেক হোসেন। তার এই উদ্ভাবন ইতিমধ্যে জেলার শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবন হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে।

১-৩ মার্চ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনাজপুর একাডেমি স্কুল মাঠে আয়োজিত ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় অংশগ্রহণ করলে মোসাদ্দেকের উদ্ভাবনটি শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবন সমূহের মর্যাদা লাভ করে। মোসাদ্দেক হোসেন জানান, বাংলাদেশের ভূমি সমস্যা এবং চাষাবাদের জন্য পর্যাপ্ত ভূমির পরিমাণ তৈরি করণের লক্ষে এই উদ্ভাবনটি নিয়ে দীর্ঘ তিন বছর ধরে দিনাজপুর আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের টেকনোলজী ল্যাবে গবেষণার মাধ্যমে সফলতা আসে।

বহুতল বিশিষ্ট ভবনের মত আকৃতিতে তৈরি কৃত স্থরে স্থরে বিন্যস্থ কাঠামোতে উদ্ভিদ রোপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণে প্রয়োজনীয় আলোক তরঙ্গের জন্য সমতল দর্পন ব্যবহার করে আলো প্রতিফলিত করে বায়ু মাধ্যম থেকে বায়ু মাধ্যমে আলোর পথ ঘুরিয়ে দিয়ে আলোকে সমান ভাবে সঞ্চালিত করে স্থরগুলোতে আলোর ব্যবহার করা হয়েছে।

ফলে একাধিক স্থরে একই সময়ে কয়েকগুণ বেশি ফসল ফলানো যাবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাঁশ-বেত, কাঠ দিয়ে তৈরি স্থরে প্রতি ৫০ বর্গমিটার কৃষি জমিকে তিনস্থর বিশি্ষ্ট জমিতে রূপান্তর করতে ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হবে এবং ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত এই স্থরগুলোতে চাষাবাদ করা যাবে। মূলত নিম্ন স্থরে ভারী ফসল ধান,গম, ভূট্টা ইত্যাদি এবং উপরের স্থরগুলোতে হালকা ফসল যেমন করলা, শশা, লাউ, ঝিঙ্গা, পটল ইত্যাদি মাঁচা আকারে দিয়ে স্বল্প মাটিতে একই স্থানে একাধিক ফসল উৎপাদিত হবে। মোসাদ্দেক আরও জানান এই পদ্ধিতিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সেচ ব্যবস্থা করা যাবে। মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে সোলার পাম্পের সাহায্যে স্বয়ংক্রিয় সেচ প্রদানে কাজ করছি শীঘ্রই পদ্ধতিটিতে এই প্রযুক্তি সংযুক্ত হবে।

মোসাদ্দেক ইতিপূর্বে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলাতে একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে। স্বল্প জ্বালানীতে রান্নার চুলা উদ্ভাবন, কৃষি জমিতে পোকা দমনের যন্ত্র, স্বয়ংক্রিয় ড্রেন পরিস্কার যন্ত্র জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে পুরস্কৃত হয়েছে।শিক্ষায় ভাল ফলাফল ও নানামূখী সামাজিক কর্মকান্ডের জন্য দিনাজপুর সদর উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে মোসাদ্দেক পুরস্কৃত হয়েছে।

দিনাজপুর আদর্শ মহাবিদ্যালেয়ের অধ্যক্ষ ড. সৈয়দ রেদওয়ানুর রহমান জানান, মোসাদ্দেক বিজ্ঞান মনষ্ক একজন বিজ্ঞানের মেধাবী শিক্ষার্থী। এছাড়াও সামাজিক নানান উদ্যোগের মাধ্যমে সে সৃজনশীলতার চর্চা করে। কলেজ প্রশাসন থেকে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়। জাতীয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে বরাবর প্রথম স্থান অর্জন করে মোসাদ্দেক ত্রিশটিরও অধিক পুরস্কার কলেজকে উপহার দিয়েছে।

‌মোঃ মোসা‌দ্দেক হো‌সেন
‌বিএস‌সি(অনার্স), উ‌দ্ভিদ বিজ্ঞান
আদর্শ মহা‌বিদ্যালয়, দিনাজপুর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য