কুড়িগ্রামের উলিপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর দশ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ত্রিশ কেজির চালের বস্তায় ওজন কম, নিম্ন মানের চাল বিতরন ও বস্তা প্রতি বিশ টাকা বেশি নেয়ার অভিযোগ উঠায় উপজেলা খাদ্য বিভাগ কর্তৃক তিন সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, মার্চ মাসের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর দশ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির জন্য উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ডিলার আব্বাস আলী ৫’শ ৫৯ জন সুবিধাভোগির বিপরীতে ১৬ মেঃ টন সাতশত সত্তুর কেজি চাল খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করে নিয়ে যান। অভিযোগ উঠেছে, ওই ডিলার অত্যন্ত গোপনে গুদাম থেকে উত্তোলনকৃত উন্নতমানের চাল স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে অতি নি¤œমানের চাল বুড়াবুড়ি বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মজুদ করেন।

এরপর এসব চাল ৩০ কেজির স্থলে ২৮ কেজি করে বস্তায় ভর্তি করে তার নিজস্ব সেলাই মেশিন দিয়ে বস্তার মুখ বন্ধ করেন। মঙ্গলবার ও বুধবার (১৩ ও ১৪ মার্চ) এসব চাল তালিকা ভূক্ত সুবিধাভোগিদের মাঝে প্রতি বস্তা ৩শ টাকার পরিবর্তে ৩শ বিশ টাকা নিয়ে কিনতে বাধ্য করেন।

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ঘটনা তদন্ত করে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য বুধবার (১৪ মার্চ) উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ফজলুল হক’কে আহবায়ক করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

ডিলার আব্বাস আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলাকার একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা হল উলিপুরে খাদ্য গুদাম থেকে চাল নিয়ে আসার সময় বুড়াবুড়ি বাজারের কাছে গাড়ীটি দূর্ঘটনার শিকার হলে কিছু বস্তা ফেটে চাল মাটিতে পড়ে যায়। বস্তা ছেড়া থাকার কারনে সেগুলো নতুন করে সেলাই করতে হয়। নি¤œমানের চাল বিতরন, ওজন কম ও টাকা বেশি নেয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন।

উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মনোয়ারুল ইসলাম জানান, খাদ্য গুদাম থেকে নি¤œমানের চাল সরবরাহ করা হয়নি। প্রতিটি ডিলারকে যে চাল দেয়া হয়েছে তার নমূনা পৃথক পৃথক ভাবে আমাদের কাছে সংরক্ষন করা আছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অঃ দাঃ) মধুসুদন বর্মন বলেন, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠায় তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

উপজেলা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য