নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার দুই তৃতীয়াংশ কৃষক চলতি শুকনো মওসুমে তিস্তাবাঁধ সেচ প্রকল্পের পানি পাচ্ছে না। ফলে কৃষকেরা গভীর ও অ-গভীর টিউবয়েলের মাধ্যমে বেশি খরচে ইরি বোরো ধানসহ অন্যান্য ক্ষেতে সেচ দিতে বাধ্য হচ্ছে। সেচ মওসুমে প্রধান ক্যানেলে পানি স্বল্পতা, সময়মত টারসিয়ারী ক্যানেল পুনঃ নির্মাণ না করা ও কয়েকটি আউলেট বন্ধ থাকায় চাহিদামত পানি সরবরাহে বিঘœ ঘটায় প্রান্তিক কৃষকেরা বিপাকে পড়েছে।

সৈয়দপুর পাওবো’র কৃষি সম্প্রসারণ সুত্র জানায়, তিস্তা বাঁধের প্রধান ক্যানেলসহ রংপুর-বগুড়া, দিনাজপুর সেকেন্ডটারী ক্যানেল ও কয়েকটি টারসিয়ারী ক্যানেলের আওতায় কিশোরগঞ্জ উপজেলার সেচযোগ্য জমির পরিমান প্রায় ৮ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে চলতি শুকনো মওসুমে ২৫শ’ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হবে। টরসিয়ারী ক্যনেলের প্রতিটি আউলেটে স্থানীয় কৃষকদেরকে নিয়ে পানি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি সেচ মওসুমে কৃষকের জমিতে সেচ প্রদান করে থাকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই কমিটির সাথে জমির পরিমান অনুযায়ী সেচের চুক্তি মূল্য করেন।

এস সেভেনটি টারসিয়ারী ক্যানেলের সেচ প্রকল্পের সুবিধাভোগী কৃষক বাজেডুমরিয়া গ্রামের রশিদুল ইসলাম ও ভেড়ভেড়ী গ্রামের সহিদার রহমান ও পানিয়াল পুকুর খোলাহাটি গ্রামের আবুল কালাম আজাদ বলেন, চলতি শুকনো মওসুমে কৃষকদের মাঝে পানি নিয়ে ভাবনা শুরু হয়েছে। সেচ প্রকল্পের প্রধান ক্যানেলে পানি স্বল্পতা, টারসিয়ারী ক্যানেল সংস্কার না করা ও কয়েকটি আউটলেট বন্ধ থাকায় কৃষকের চাহিদামত পানি সরবরাহে বিঘœ ঘটছে। এসব কারনে ইরি-বোরা চাষাবাদের পরিবর্তে অনেকে অন্যান্য ফসল চাষাবাদ করছে।

এদিকে বড়ভিটা ইউনিয়নের বড়ভিটা কামারপাড়া গ্রামের কৃষক পরিতোষ রায়, তেলীপাড়া গ্রামের নাজমুল ও আব্দুর রউফসহ অনেক কৃষক বলেন, সেচ মৌসুমে ক্যানেলের পানি দিয়ে চাষাবাদ করা এখন মুশকিল হয়ে পড়েছে। একদিকে পানি স্বল্পতা অপরদিকে আউটলেটের ইজারাদার প্রতিবিঘা (৩০ শতাংশ) সেচ দিতে ৬শ’ থেকে ১ হাজার টাকা নেয়। আবার চাহিদামত অনেক সময় পানি পাওয়া যায় না। তখন মর্টার অথবা স্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে সেচ দিতে হয়।

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মাহবুবুল আলম বসুনিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাঁদখানা চন্ডীর বাজার এলাকার, নিতাই খোলাহাটি এলাকার টারসিয়ারী ক্যানেল ও কয়েকটি আউটলেটে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ২৫শ’ হেক্টর জমি সেচ দিতে ২শ’ থেকে ৩শ’ কিউসেক পানি প্রয়োজন। বর্তমানে তিস্তাবাঁধ প্রকল্পের প্রধান ক্যানেলে পানি সরবরাহ ঠিক আছে। তবে বিগত বছরে ক্যানেলের পানির জন্য কৃষকদের দৈন্যদশার কারনে অনেক কৃষক তাদের (ইরি ধানের পরিবর্তে ভূট্টা) চাষাবাদের ধরণ পরিবর্তন করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য