আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বারাজান-বান্দর কুড়া এলাকায় নদীর তীরে দিনব্যাপী মেলা শুরু হয়েছে।

প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৫মার্চ) এবারও বসেছে এ কালী মেলা।

ভোররাত থেকে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বি ভক্তরা এখানে আসে কালী মায়ের অশেষ কৃপা লাভের আশায়।

জানা গেছে, অনেক মানতের সফল (কামিয়াবী) ভক্তরা বহূদূর বাংলাদেশের প্রতন্ত অঞ্চল থেকে উপজেলার বারাজান-বান্দর কুড়া এই মেলায় আসেন । মহাশক্তি শ্রীশ্রী কালী মায়ের পূজায় । প্রতিবছর চৈত্র মাসের স্বপ্নে আদেশকৃত তারিখের উৎসবকে কেন্দ্র করে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের বিশাল এলাকা জুড়ে কালী পূজার আগের দিন থেকে অনুষ্ঠিত হয় এই মেলা। মেলাকে ঘিরে সমবেত হয় লাখো মানুষ।

কালী মন্দির কমিটির সভাপতি বলেন, আমরা কালী মা কে তুস্ট করার জন্য প্রতি বছর মায়ের পূজা করে আসছি। কালী মা তন্ত্রমতে পূজিত প্রধান দশ জন দেবীর মধ্যে কালী প্রথম দেবী। ভক্তরা কালীকে বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টির আদিকারণ মনে করে। বাঙালি হিন্দু সমাজে দেবী কালীর মাতৃরূপের পূজা বিশেষ জনপ্রিয়।

মেলা কমিটির উপদেষ্টা বারাজান এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, সনাতন (হিন্দু) ধর্মীয় উৎসব হলেও সব সমপ্রদায়ের মানুষ আসেন এই মেলায়। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার নারী- পুরুষ ও শিশুরা আসেন। মেলাকে ঘিরে দোকানিরা তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন। মেলায় বেচাকেনা চলবে। গভীর রাত পর্যন্ত। মেলায় পাওয়া যায় মিষ্টি, খেলনা, মনোহরী সামগ্রী। লোহা ও কাঠের তৈরি আসবাবপত্র, মাটির তৈরি খেলনাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিখ্যাত সমগ্রী।

কালী পূজা উপলক্ষে কালীর মন্দির, শসানঘাট এলাকায় সারারাত চলে ভক্তদের দেহত্বত্ত, সামা সংগীত, ভক্তিগীতি গান। পাপ মোচন ও পুণ্য লাভের আসায় দেশ- বিদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ আসেন কালী মায়ের কাছে বিপদ থেকে পরিত্রান পাওয়া ভক্তরা মানত দিতে ও কালী মায়ের অশেষ কৃপা আদায় করতে। শ্রী শ্রী কালী মায়ের মেলার আনন্দে পাল্টে যায়।

মেলার দিন ব্যাপী কালী মায়ের পূজায় ভোররাত থেকে মেলায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে। এইদিন ভোর থেকে পর্যন্ত প্রচন্ড ভীর উপেক্ষা করে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।

মানুষের ভিড় সামলাতে বেগ পেতে হয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। বিভিন্ন ষ্টলের সেলসম্যানদের প্রচন্ড ব্যাস্ততার মধ্যে গ্রাহকদের সামলাতে হয়েছে। চিত্রবিনেদনের জন্য এ মেলায় চলছে সার্কাস, মৃত্যু কূপ কার- মোটরসাইকেল খেলা।

লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক ও স্থানীয় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজুর কঠোর ব্যবস্থা নেয়ায় মেলায় কোন ধরনের অশ্লিলতার সুযোগ মেলেনি। মেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছাড়াও আসবাবপত্র, কুটির ও হস্তজাত দ্রব্য, প্রসাধনী, খেলনা, প্লাষ্টিক সামগ্রী, চুড়ি, ফিতা, মিষ্টির দোকানসহ ১০হাজারের বেশি ষ্টলের বিপুল সম্ভারের পসরা বসানো হয়েছে। তবে মেলায় সব ধরনের পণ্যই পাওয়া যায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য