নীলফামারীর জলঢাকায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ও বিভিন্ন অভিযোগ এনে পরিষদ বর্জন করেছেন ওই ইউনিয়নের ১২ সদস্য। উপজেলার কৈমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু’র বিরুদ্ধে লিখিত অনাস্থা প্রকাশ করেন তারা।

সম্প্রতি ১২ ইউপি সদস্য সাক্ষরিত রেজিলেশন ইউপি চেয়ারম্যান বিরুদ্ধে ভুয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন করে অর্থ আত্মসাৎ ও নারী সদস্যদের সাথে অশোভন আচরণ করেছেন মর্মে তার বিরুদ্ধে সর্বসম্মতি ক্রমে অনাস্থা আনেন তারা। এই লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরে চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবুকে অপসারণের জন্য লিখিতভাবে অভিযোগ করেন ওই ১২ ইউপি সদস্য।

এদিকে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের সাথে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারন করায় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ সেবা নিতে এসেও ফিরে যাচ্ছে খালি হাতে। এ অবস্থা দীর্ঘদিনের। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কয়েক দফা চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। এরই মধ্যে একটি অভিযোগ তদন্ত করেছে নির্বাহী কর্মকর্তার গঠিত তদন্ত টিম।

কৈমারী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ঝড়িয়া চন্দ্র রায় বলেন, চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবুর স্বেচ্ছাচারিতায় আমরা ক্ষুদ্ধ ও মর্মাহত। সে বিভিন্ন সময় সদস্যদের সাথে খারাপ আচরণ করে। আয়-ব্যয়ের কোন হিসাবই আমাদের নিয়ে করেন না। তাই আমরা তার বিরুদ্ধে অনাস্থাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি। তিনি আরও বলেন, এখন চেয়ারম্যান দিশেহারা হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাদের প্রতিপক্ষকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাদের তার পক্ষে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে কৈমারী ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবুর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে আসেন বক্তব্য দিবো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় বলেন, একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত টিমের মাধ্যমে তদন্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরিষদের সকল সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য