যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স এজেন্সি-সিআইএ’র নতুন প্রধান হিসেবে গিনা হাসপেলকে নিয়োগের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখন সিনেটে অনুমোদন হলেই তিনি হবেন সিআইএ’র প্রথম নারী পরিচালক। তবে তিনি ব্ল্যাক সাইট নামে থাইল্যান্ডের একটি কারাগারে বন্দি নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট বুশ আমলে এই বিতর্কিত গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বন্দিদের ওপর ওয়াটার বোর্ডিয়ের মতো নির্মম নির্যাতন চালানো অভিযোগ রয়েছে।

গিনা হাসপেল ২০০২ সালে থাইল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ব্ল্যাক সাইট কারাগারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন। ওই কারাগারে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের নির্যাতন করা হতো। তার কারাগারে সন্দেহভাজন দুইজন আল কায়েদা সদস্যকে ওয়াটার বোর্ডিংয়ের মতো ভয়ানক শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

২০১৪ সালে প্রকাশিত বুশ আমলে নির্যাতনের বিভিন্ন সরকারির নথির আলোকে প্রকাশিত ‘টর্চার রিপোর্ট’ বইয়ের লেখক ল্যারি সিয়েমস গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘ঘটনা হলো তিনি এজেন্সিতে থাকতে পেরেছেন, এজেন্সিতে বেড়ে উঠেছেন আর এখন পরিচালক হতে চলেছেন যা গভীর সমস্যার কারণ হতে পারে’।

হাসপেল ২০০৫ সালে সিআইএ’র তদন্তের জন্য ধারণ করা ভিডিও ধ্বংসের জন্য একটি তারবার্তায় নির্দেশও দিয়েছিলেন। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের ওয়াশিংটন অফিসের উপপরিচালক ক্রিস্টোফার আন্দারস দাবি করেন, ‘হাসপেল নির্যাতনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন।’ সিনেটে নিয়োগ অনুমোদন হওয়ার আগে আন্দারস তার নির্যাতনের রেকর্ড প্রকাশ করার জন্য সিআইএ’র প্রতি আহ্বান জানান।

একই কথা বলেন ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় নির্যাতনের শিকার হওয়া আরিজোনার সিনেটর জন ম্যককেইন। তিনি বলেন, অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যে সিআইএ’র জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে তার সম্পৃক্ততার আওতা ও ধরন সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। বুশ আমলে মার্কিন বন্দিদের নির্যাতনের ঘটনাকে আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায় হিসেনে অভিহিত করেন ম্যাককেইন।

হাসপেল ১৯৮৫ সালে সিআইএ-তে যোগ দিয়ে বিদেশে অভিজ্ঞতা বাড়ান। তিনি সিআইএ’র জাতীয় চোরাগোপ্তা সেবা বিভাগের উপপরিচালক ছাড়াও বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। সিআইএ পরিচালকের মনোনয়ন পাওয়ার এক বিবৃতিতে হাসপেল বলেছেন, ‘এই সুযোগ দেওয়ায় আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞ ও সিআইএ’র পরবর্তী পরিচালক হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার মতো বিশ্বাস করায় আমি তার প্রতি বিনীত’। তিনি আরও বলেন, ‘অনুমোদিত হলে আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চমৎকার গোয়েন্দা সহায়তা দিতে সচেষ্ট থাকবো। তিনি তার প্রথম বছরে তা আশা করেছিলেন।’

জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক পরিচালক জেমস ক্লাপার হাসপেলের মনোনয়ন ঘোষণা করেন। আর ২০১৩ সালে হাসপেলের পদোন্নতি আটকে দেওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর ডিয়ানি ফেইনস্টেইনও এবার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি মাইক পম্পেও ও হাসপেলের নিয়োগ অনুমোদনের পক্ষে ভোট দেবেনে।

গত বছর ট্রাম্প তাকে সিআইএ’র উপপরিচালক নিয়োগ দেওয়ার সময় থাইল্যান্ডের কারাগারে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হয়। এতদিন তিনি পম্পেও’র অধীনে কাজ করতেন। যদি সিনেটে অনুমোদন হয় তাহলে তিনি পম্পেও’র স্থলাভিষিক্ত হবেন। তার আগে পম্পেওকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এজন্য রেক্স টিলারসনকে বরখাস্ত করেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য