আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ত্রিশ বছর পর বাবা রুস্তম আলীকে খুঁজে পেলেন মেয়ে রোকছানা আক্তার রুবি (৩৫)। দীর্ঘদিন পর বাবাকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেয়ে। এসময় এক হৃদয় বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়। আর সেই দৃশ্য দেখতে গ্রামের শত শত মানুষ ভিড় জমায় রুবির বাড়িতে।

ঘটনাটি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম ফকির পাড়া গ্রামের। এ গ্রামেই রুবি শ্বশুর বাড়ি। তার বাবার বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মাঝেল পোল গ্রামে।

রোকছানা আক্তার রুবি জানায়, সৎ মায়ের অত্যাচার সইতে না পেরে ৫ বছর বয়সে কাউকে না জানিয়ে প্রতিবেশী এক ফুপুর হাত ধরে ঢাকা শহরে পাড়ি জমাই সেখানে বড় হই।

ফুপু গার্মেন্টসে চাকরি করতো। সেই সুবাদে আমিও গার্মেন্টসে চাকরি শুরু করি। কম টাকার বেতনে একবেলা খেয়ে কষ্টে করে চাকরি করি। এসময় আমার সততায় মুগ্ধ হয়ে গার্মেন্টস কাটিং ম্যানেজার জাকির হোসেন আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

আমি প্রস্তাবে রাজি হই এবং আমরা দুইজন বিয়ে করে ফেলি। এক সময় গার্মেন্টসের চাকরি ছেড়ে দিয়ে স্বামীর সঙ্গে চলে আসি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম ফকির পাড়া গ্রামে। সেখানেই শুরু করি সংসার জীবন।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাবা রুস্তম আলী মেয়ের সন্ধান পেয়ে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থেকে রোকছানা আক্তার রুবিকে দেখতে ছুটে আসেন হাতীবান্ধায়। ৩০ বছর পর মেয়েকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা।

জানা গেছে, রোকছানা আক্তার রুবির ৫ বছর বয়সে বাবা রুস্তম আলী আবারও একটি বিয়ে করায় মা কুলছুম বেগম অভিমান করে মেয়েকে ছেড়ে চলে আসেন বাবার বাড়িতে। এরপর শুরু হয় সৎ মায়ের অত্যাচার। এরপর তিনি প্রতিবেশী ফুপুর সঙ্গে চলে আসেন ঢাকা শহরে সেখানে বড় হয়। সেখানে চাকরি শুরু, এরপর বিয়ে। এভাবেই কেটে যায় ৩০ বছর। জাকির ও রোকছানা দম্পত্তির এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান। ছেলে আব্দুল রাজ্জাক রুদ্র এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। মেয়ে নাফিসা ৫ম শ্রেণির ছাত্রী। ফেলে আসা স্মৃতি মনে ছিল না তার। শুধু মনে পরে পিরোজপুর ও মঠবাড়িয়া থানার কথা।

এক সময় তার স্বামী জাকির হোসেনকে বিষয়গুলো খুলে বললে তার স্বামী গত এক বছর ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে পিরোজপুরের মাঠবাড়িয়া থানায় তার বাবা মাকে খুঁজতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে পেয়ে যান। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি বাবা রুস্তম আলী মেয়েকে দেখতে ছুটে আসেন। এরপর সেখানে এক হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা শুনে সেখানে শত শত মানুষ ভিড় জমায়।

রোকছানা আক্তার রুবি বলেন, অবশেষে আল্লাহর রহমতে আজ দীর্ঘ ৩০ বছর পর বাবাকে পেয়ে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছি। বাবা-মায়ের কথা বাদেই দিয়েছিলাম। আজ সেই দিনের কষ্টের কথাগুলো মনে হলে গা শিহরিত হয়ে উঠে।

স্বামী জাকির হোসেন বলেন, আমার স্ত্রীর পরিচয়ের জন্য আমি দিনের পর দিন বিভিন্ন মাধ্যমে খুঁজতে থাকি তার বাবা-মাকে। অবশেষে পূর্ণ হলো সেই স্বপ্ন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য