কানাডার ক্যুবেক প্রদেশের চিকিৎসকরা তাদের বেতন না বাড়িয়ে সে টাকা প্রদেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে খরচ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন।

এরইমধ্যে প্রায় আটশ চিকিৎসক বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়ে লেখা একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বাড়তি বেতনে যে তহবিল লাগত, তা স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জন্য ব্যয় করলে ভালো হবে বলেও মন্তব্য তাদের।

“আমরা ক্যুবেকের চিকিৎসকরা মঞ্জুর হওয়া বাড়তি বেতন বাতিলের অনুরোধ জানাচ্ছি; এই সম্পদ স্বাস্থ্যকর্মীদের ভালোর জন্য ব্যয় করলে বেশি ফল দেবে,” খোলা চিঠিতে বলেন তারা।

গত মাসের শেষ দিকে চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সমর্থক গোষ্ঠী মেডিসিনস্ ক্যুবেকোস পর লে রেজিম পাবলিক চিঠির খসড়াটি করে বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান।

এতে পেশাদারি সংগঠনগুলোর মধ্যস্থতায় চিকিৎসকদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ‌’বিস্ময়’ প্রকাশ করা হয়।

স্বাক্ষরকারীরা বলছেন, চিকিৎসকদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তে নার্স, বেয়ারা এবং অন্যান্য কর্মচারীদের ওপর চাপ বাড়বে; এটি রোগীদের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও বিপুল ঘাটতি সৃষ্টি করবে।

“এ প্রতিবন্ধকতা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ আমাদের বেতন কাটা,” চিঠিতে এমনটাই বলা হয়েছে।

সারাবিশ্বের মনোযোগ কেড়ে নেওয়া চিঠিটিতে সমর্থন জানিয়ে ৭৮৯টি স্বাক্ষর পড়েছে, যাদের মধ্যে আছেন বিশেষজ্ঞ ও আবাসিক চিকিৎসক এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীরা।

মেডিসিনস ক্যুবেকোস পর লে রেজিম পাবলিকের প্রেসিডেন্ট ইসাবেল লেব্লাঙ্ক বলেন, এ পদক্ষেপ নেওয়া সহজ ছিল না।

‍”কেন আমরা এরকম করছি, অনেকের জন্যই তা বোঝা কষ্টকর ছিল। যদিও আমাদের কাছে এ সময়ে এটাই অর্থ বহন করে,” বলেন তিনি।

সম্প্রতি ক্যুবেকের প্রাদেশিক সরকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জেনারেল প্র্যাকটিশনার্সদের বেতন এক দশমিক চার থেকে এক দশমিক আট শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। বাড়তি এ বেতনের জন্য ক্যুবেকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের গড় আয় বার্ষিক চার লাখ কানাডিয়ান ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে, পারিবারিক চিকিৎসকদের আয়ও বছরে আড়াই লাখ কানাডীয় ডলারের বেশি হবে।

২০১৬ সালের এক প্রতিবেদনে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ক্যুবেকের স্বাস্থ্য সেবার ভয়াবহ দীর্ঘসূত্রিতা ও ভঙ্গুর অবস্থার চিত্র উঠে আসে। ভিড়ের কারণে এখানকার হাসপাতালগুলোতে জরুরি বিভাগে আসা অন্তত ৩৫ শতাংশ রোগীকে চিকিৎসা সেবা পেতে পাঁচ ঘণ্টা বা তার চেয়েও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়।

কানাডারই অন্টারিওতে এ ধরনের অপেক্ষা করা রোগীর সংখ্যা ১৫ শতাংশ; জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৫ শতাংশ।

ক্যুবেকরা নার্সরাও সম্প্রতি তাদের কাজের চাপ নিয়ে সরব হয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে এক নার্স হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব এবং বাড়তি কাজের চাপ নিয়ে হতাশার কথা ফেইসবুকেও লিখেছেন।

কাজের এক পর্যায়ে তার একারই ৭৬ জন রোগীর দেখভাল করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

“খারাপ সেবা দেওয়ায় আমি লজ্জিত কিন্তু (সে সময়ে) এটাই আমি সর্বোচ্চ দিতে পেরেছি; আমাদের স্বাস্থ্যসেবা এখন অসুস্থ ও মৃতপ্রায়,” বলেন তিনি।

বাড়তি কাজের চাপে হওয়া কোমর ব্যাথায় ঘুমাতে পারেন না বলেও ফেইসবুকে জানান ওই নার্স।

“মনে হয়না, আমি একাই কেবল নার্সিংয়ের বর্তমান অবস্থার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত,” বলেন তিনি।

বাড়তি বেতন নিয়ে চিকিৎসকদের প্রতিবাদের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে খবর গার্ডিয়ানের। গত মাসে ক্যুবেকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গ্যেটেন বেরেট আনন্দের সঙ্গে চিকিৎসকদের বর্ধিত বেতন স্বাস্থ্য সেবার অন্যান্য অংশে পাঠিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।

“যদি তাদের মনে হয়, তারা অতিরিক্ত বেতন পাচ্ছে, তাহলে তারা তাদের টাকা টেবিলে ছেড়ে যাক; টাকাগুলোর ভাল্য ব্যবহার হবে বলে নিশ্চয়তা দিচ্ছি আমি,” সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করেছিলেন বেরেট।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য