পক্ষত্যাগী সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়াকে হত্যাচেষ্টার তদন্ত দ্রুত গতিতে এগুচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রুড।

এরই মধ্য পুলিশ ২৪০ জনের বেশি প্রত্যক্ষদর্শীকে সনাক্ত করেছে; খুঁজে পাওয়া ২০০-রও বেশি নমুনাপ্রমাণও খতিয়ে দেখছেন তারা।

শনিবার সরকারি জরুরি কমিটি কোবরার বৈঠক শেষে রুড পুলিশের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন বলে খবর বিবিসির।

“তারা (পুলিশ) দ্রুতগতি ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। এই তদন্তের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণকে নিরাপদে রাখা; আমরা সব প্রমাণ সংগ্রহ করছি যেন এরপর যদি কিছু আসে, কি করা উচিত আমরা পরিষ্কার থাকবো,” কোবরার বৈঠক শেষে বলেন রুড।

হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের আড়াইশরও বেশি সদস্য ‌’বড় ধরনের তদন্তে’ কাজ করছে, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

“কেউ যদি চিন্তা করে তার কাছে অতিরিক্ত তথ্য আছে, সেগুলো নিয়ে সামনে এলে পুলিশ স্বাগত জানাবে। যথেষ্ট পরিমাণ সিসিটিভি ফুটেজ আছে দেখার জন্য; এটি একটি কষ্টকর, বিস্তৃত তদন্ত এবং এজন্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় সময় ও সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন,” বলেন রুড।

গত ৪ মার্চ সলসবারির উইল্টশায়ারের একটি বেঞ্চে ৬৬ বছর বয়সী পক্ষত্যাগী সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার ৩৩ বছর বয়সী মেয়ে ইউলিয়াকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তাদের ওপর নার্ভ গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল বলে পরে পুলিশ নিশ্চিত করে; তদন্তে সহায়তার জন্য শুক্রবার সেনা, রাজকীয় নৌ ও বিমানবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর ১৮০ কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়।

রাসায়নিক যুদ্ধাস্ত্র ও সংক্রমণ দূর করার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ এ কর্মকর্তারা স্ক্রিপাল ও ইউলিয়াকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্যান্য গাড়ি ও পক্ষত্যাগী রুশ গুপ্তচরের বাড়ি পরীক্ষা করে দেখছে।

নার্ভ গ্যাস একটি মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক। এটি স্নায়ু ব্যবস্থাকে অকেজো করে দৈহিক ক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।

সাধারণত মুখ অথবা নাক দিয়েই গ্যাসটি শরীরে প্রবেশ করে, তবে চোখ বা চামড়ার মাধ্যমেও এটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

সাবেক গুপ্তচর কর্নেল স্ক্রিপাল ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার চরে পরিণত হওয়ার অভিযোগে রাশিয়ায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। বিচারে ১৩ বছরের কারাদণ্ড হলেও আটক গুপ্তচর বদলাবদলিতে ২০১০ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মুক্তি পেয়েই স্ক্রিপাল ব্রিটেনে চলে যান।

স্ক্রিপালের কন্যা ইউলিয়া মস্কোতে বসবাস করলেও বাবাকে দেখতে তিনি নিয়মিত যুক্তরাজ্যে যেতেন।

পুলিশের প্রকাশ করা সিসিটিভি ফুটেজে অসুস্থ হয়ে পড়ার কিছুক্ষণ আগে পিতা-কন্যাকে ওই এলাকার জিজি রেস্তোরাঁর সামনের গলি ধরে হেঁটে যেতে দেখা গেছে।

ঘটনার পর সতর্কতা হিসেবে রেস্তোরাঁটি ও পাশের বিশপ’স মিল পাব বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার কন্যা ইউলিয়াকে নার্ভ গ্যাস প্রয়োগ করে মারার চেষ্টা করা হয়েছে, পুলিশের এমন ঘোষণা রাশিয়ার আরেক সাবেক গুপ্তচর আলেকজান্দার লিটভিনেঙ্কোকে বিষপ্রয়োগের ঘটনাটিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

২০০৬ সালে লন্ডনে লিটভিনেঙ্কোর চায়ের সঙ্গে তেজস্ক্রিয় পোলোনিয়াম মিশিয়ে দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

তেজস্ক্রিয় পোলোনিয়াম ও নার্ভ গ্যাসের মতো উপাদান অপরাধী দলগুলো বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সাধারণত তৈরি করতে পারে না; এগুলো সাধারণত সরকারি নিয়ন্ত্রণে বিশেষায়িত গবেষণাগারে তৈরি হয়।

স্ক্রিপাল ও তার মেয়েকে হত্যাচেষ্টায় রাশিয়ার হাত থাকতে পারে এমন ইঙ্গিতের মধ্যে মস্কো এ ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছে।

সলসবারির ঘটনাস্থলে প্রথম উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা সার্জেন্ট নিক বেইলিকেও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়; নিজের ‘বীর’ অভিধায় অস্বীকৃতি জানানো বেইলি অসুস্থ থাকলেও তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

তিনি সজাগ আছেন এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সলসবারির ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে থাকা স্ক্রিপাল এবং তার মেয়ের অবস্থা ‌’জটিল হলেও তাদের অবস্থাও স্থিতিশীল আছে’ বলে জানিয়েছেন রুড।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য