সংবাদ সম্মেলনঃ প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসীরা দিনাজপুর শহরের প্রানকেন্দ্র বাহাদুর বাজারস্থ ষ্টেশনরোডের কাপড়ের দোকান আয়োজন ভাংচুর-লুটপাট এবং তালা লাগিয়ে দোকান দখল করলেও থানা পুলিশ এখনো কাউকে আটক করেনি। সন্ত্রাসীরা ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ও নগদ ৩০ হাজার টাকা লুট করে নিয়েছে এবং দোকান না ছাড়লে হত্যার হুমকী দিচ্ছে বলে দোকান মালিকের অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়,গত ৭ মার্চ বিকেল ৩টায় শহরের বাহাদুর বাজার ষ্টেশনরোড এলাকার প্রকাশ্য দিবালোকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা কাপড়ের দোকানে আয়োজনে হামলা করে। এসময় দোকান মালিক মাহফুজার রহমান দোকানে না থাকার সুযোগে সন্ত্রাসীরা দোকানের কর্মচারী মোঃ মাহবুব আলমকে জোরপূর্বক দোকান হতে বের করে দিয়ে ৩ লক্ষাধিক টাকা মুল্যের মালামাল এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ৩০/৩৫ জনের সন্ত্রাসী দলের প্রত্যেকেই সশস্ত্র থাকায় স্থানীয়রা কেউই সাহস করে এগিয়ে আসতে পারেনি। বেপোরোয়া ভাংচুর এবং তান্ডবের কারনে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই সন্ত্রাসীরা আয়োজন দোকানের অর্ধেক ছাদ হাম্বুল ও বড় হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছে। এছাড়াও তারা দোকানের কলাপসিবল গেটে চেইন তালা মেরে দিয়ে দোকানে প্রবেশের রাস্তা বন্ধ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে “আয়োজন” দোকানের স্বত্বাধিকারী মোঃ মাহফুজার রহমান লিখিত অভিযোগ পাঠ করে জানান,দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে আমরা ওখানে ব্যবসা করে আসছি। ১৯৬৫ সাল অর্থাৎ পাকিস্তান আমলে মরহুম মহসীন চৌধুরীর কাছ হতে আমার পিতা মরহুম মতিয়ার রহমান চৌধুরী ষ্টেশনরোডের পূর্ব-পশ্চিমে ৩৯ফিট লম্বা এবং উত্তর-দক্ষিনে ১৮ফিট চওড়া ওই জায়গায়টি ভাড়ায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন। পিতা মতিয়ার রহমানের মৃত্যুর পর সে (মাহফুজার রহমান) ওই দোকানে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। হঠাৎ করেই ২০০৬ সালে জনৈক্য জাকির হোসেন গং জায়গার মালিকানা দাবী করে আমাকে উচ্ছেদের জন্য দিনাজপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা করেন। আবার তারাই ২০১৬ স্ব-উদ্দ্যোগেই মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয় এবং মৌখিকভাবে দোকান ছেড়ে দেয়ার জন্য হুমকী-ধমকী দিয়ে আসছে।

তিনি জানান, কোনরুপ কথাবার্তা ছাড়াই গত ৭মার্চ বুধবার দোকান ভাংচুর এবং লুটপাট করেছে। আমি নিরীহ মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ওই দিনই দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় জার্জিসর রহমান লিটন,মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত নামা ৩০/৩৫ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ দায়ের করেছি। পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার কিংবা আটক না করায় লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের ব্যাপারে সংকিত হয়ে পড়েছি।

দোকান লুটের অভিযোগ প্রাপ্তির কথা সত্যতা স্বীকার করে দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেদোয়ানুর রহীম জানান, শিল্প ও বণিক সমিতির উদ্দ্যোগে মিমাংসার জন্যে উভয় পক্ষে বসার প্রক্রিয়া চলছে তাই আপতত আইনী প্রক্রিয়া যাওয়া হচ্ছেনা, বিষয়টির সমাধান না হলে পরবর্তীতে যথাযথ আইনী তৎপরতায় সবকিছুই করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন,মাবুদার রহমান চৌধুরী,ফারুক খলিল চৌধুরী,রুমন মাহবুব চৌধুরী,ওয়াসেফ বারী,হাফিজুল কাদের লাবু ও মাহাবুব আলম প্রমুখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য