রাশিয়ার সাবেক গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার কন্যা ইউলিয়াকে হত্যার চেষ্টায় নার্ভ গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ পুলিশ।

গত রোববার বিকেলে সের্গেই ও ইউলিয়া স্ক্রিপালকে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের সলসবারিতে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পাওয়া যায়, তারপর থেকে তারা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে খবর বিবিসির।

ব্রিটিশ পুলিশের সহকারী কমিশনার মার্ক রাউলি জানিয়েছেন, যে পুলিশ কর্মকর্তা সলসবারির ওই ঘটনাস্থলে প্রথম উপস্থিত হয়েছিলেন তিনিও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

নার্ভ গ্যাস একটি মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক। এটি স্নায়ু ব্যবস্থাকে অকেজো করে দৈহিক ক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।

সাধারণত ‍মুখ অথবা নাক দিয়েই গ্যাসটি শরীরে প্রবেশ করে, তবে চোখ বা চামড়ার মাধ্যমেও এটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

ব্রিটিশ পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের প্রধান রাউলি আরো জানিয়েছেন, যে গ্যাসটি ব্যবহৃত হয়েছে তা সরকারি বিজ্ঞানীরা শনাক্ত করেছেন, কিন্তু তদন্তের এই পর্যায়ে গ্যাসটির নাম প্রকাশ করেন নাই।

তিনি বলেছেন, “এটিকে গুরুতর একটি ঘটনা হিসেবে আমলে নেওয়া হয়েছে, যেখান নার্ভ গ্যাস ব্যবহার করে হত্যার চেষ্টার মতো ঘটনা অন্তর্ভুক্ত।

“ওই লক্ষণগুলো নার্ভ গ্যাসের কারণে হয়েছে এটি নিশ্চিত। আমি এটিও নিশ্চিত করছি, যে দুই ব্যক্তি অসুস্থ হয়েছেন সুনির্দিষ্টভাবে তাদেরই লক্ষ্যস্থল করা হয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস।”

এ ঘটনায় জনসাধারণের জন্য ব্যাপকভিত্তিক কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার কন্যা ইউলিয়াকে নার্ভ গ্যাস প্রয়োগ করে মারার চেষ্টা করা হয়েছে, পুলিশের এমন ঘোষণা রাশিয়ার আরেক সাবেক গুপ্তচর আলেকজান্দার লিটভিনেঙ্কোকে বিষপ্রয়োগের ঘটনাটিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

২০০৬ সালে লন্ডনে লিটভিনেঙ্কোর চায়ের সঙ্গে তেজস্ক্রিয় পোলোনিয়াম মিশিয়ে দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। তেজস্ক্রিয় পোলোনিয়াম ও নার্ভ গ্যাসের মতো উপাদান অপরাধী দলগুলো বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সাধারণত তৈরি করতে পারে না।

এগুলো সাধারণত সরকারি নিয়ন্ত্রণে বিশেষায়িত গবেষণাগারে তৈরি করা হয়। তাই এই দুটি ঘটনার সঙ্গে কোনো রাষ্ট্র জড়িত থাকার বিষয়টি যেমন জোরালো হয়, তেমনি সন্দেহভাজন রাষ্ট্র হিসেবে রাশিয়ার নামটিও সামনে চলে আসে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য