ফাইল ফটো

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সিদ্দিক গজনবী রহস্যজনকভাবে আহত হয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার এ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

তবে তাঁর আহত হওয়া নিয়ে দিনাজপুরে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ বলছেন, ট্রেন দূর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। আবার কেউ বলছেন, ট্রেনের নীচে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন। আবার কেউ বলছেন, তাকে মারধর করে যখম করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯ টায় একটু আগে বা পরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারনা করা হয়।

তাঁর পারিবারিক সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ৮ টার সময় সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক গজনবী তাঁর শহরের পাক পাহাড়পুর বাড়ী থেকে প্রতিদিনের মত হাঁটতে বের হন। রাত ১০টার দিকে তারা খবর পান, সিদ্দিক গজনবী আহত হয়ে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ওয়ার্ড মাষ্টার মাসুদ তাদেরকে মোবাইল ফোনে এই সংবাদ জানান। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে ছুটে যান।

আহত সিদ্দিক গজনবীর সঙ্গে সারা রাত হাসপাতালে থাকা ভাই সুমন ও ভাগিনা হাজী রমজান জানান, গত মঙ্গলবার রাতে ৩/৪ জন যুবক শহরের রেল ঘুন্টি মোড় থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাত ৯টার দিকে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাৎক্ষণিক তাঁকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এ সময় তিনি অজ্ঞান থাকায় কেউ কিছু জানতে পারেননি। কিন্তু এর মধ্যেই শহরে ছড়িয়ে পড়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সিদ্দিক গজনবী ট্রেন দূর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি তার স্বজনদের জানিয়েছেন, জনৈক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদেরকে পুলিশে চাকরির জন্য ভর্তির জন্য তাঁর কাছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সার্টিফিকেট নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সাবেক কমান্ডার হওয়ায় সাটিফিকেট দিতে রাজী হননি। তাই তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে ভাগিনা হাজী রমজান অালী জানান।

রাত পৌনে নয়টায় শহরের রেল স্টেশনে সেভেনআপ ট্রেনটি রেলঘুন্টি ক্রস করে দিনাজপুর রেল স্টেশনে ঢুকে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টি-১৯ এম রেল গেট কিপার শাকিল জানান, সেভেনআপ ট্রেনটি যখন গেট অতিক্রম করছিল সে সময় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিদ্দিক গজনবী গেটবেরিয়ার পেরিয়ে ঢুকে যান। এতে তিনি ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে গেলে তাকে পাশ্ববর্তী বই বাঁধাইয়ের দোকানদার মো. মাসুদ তাঁর পা ধরে টেনে-হিছড়ে সরিয়ে নেন। পরে তাকে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা প্রদানকারী চিকিৎসক মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. আব্দুস সালাম জানান, তিনি কিভাবে আহত হয়েছেন তা রোগী জানাতে পারেননি। তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বুধবার সকাল ১১টায় এয়ার এ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কিভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন তা তিনি জানাননি। ভাই সুমন ও ভাগিনা হাজী রমজানের দাবী চিকিৎসক তাদের রাতে জানিয়েছেন সিদ্দিক গজনবীকে মারধর করা হয়েছে।

কিন্তু, দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেদয়ানুর রহিম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে সরজমিনে তদন্তে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক গজনবী কারো দ্বারা প্রহারের শিকার হয়েছে এমন ঘটনার সত্যতা মিলেনি। সেখানে রেল ক্রসিং এর দায়িত্বরত অথবা পথচারীরা কেউ এমন ঘটনা পরিলক্ষিত করেনি।

তবে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছিন, মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক গজনবী রেল লাইনের ধারে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। ট্রেনে মাথায় আঘাত লাগতে পারে তা স্বাভাবিক। কিন্তু কি কারণে রেল লাইনের ধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন,এবং মাথায় আঘাত লাগার কারণ কি তা কেউ বলতে পারছেন না। তবে বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছেন। অনেকে বলেন মক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই সংক্রান্ত বিষয় নিযে ঘটনাটি ঘটতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক অফিসের সামনে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে ও দিনাজপুর এলজিইডি মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অনুষ্ঠানে হামলার স্বীকার হয়েছিলেন। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত ঢাকায় তার সাথে যোগাযোগ করে প্রকৃত ঘটনা জানা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য