আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলার সর্বত্রই এখন আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। বসে নেই মৌ-মাছিরাও গাছে গাছে আমের মুকুল আসার সাথে সাথে মৌ-মাছিরাও এখন আমের মুকুলগুলোতে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ছয় ঋতুর এই বাংলাদেশে পাতাঝড়া ষড়ঋতুর রাজা বসন্ত। আবহমান বাংলার সৌন্দর্যের রাজা বলে পরিচিত গ্রীষ্মকাল। ফাগুনের ছোঁয়ায় পলাশ-শিমুলের বনে লেগেছে আগুন রাঙা ফুলের মেলা। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সেই সুমধুর কুহুতানে মাতাল করতে আবারও ফিরে এলো বাংলার বুক মাতাল করতে ঋতুরাজ বসন্ত।

রঙিন বন ফুলের সমারোহে প্রকৃতি যেমন সেজেছে বর্ণিল সাজে তেমনি নতুন সাজে যেন সেজেছে জেলার কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, আদিতমারী, পাটগ্রাম ও সদর উপজেলার কিছু কিছু আম বাগানসহ বসতবাড়ির আমের গাছগুলো। আমের মুকুলে ভরপুর আর ঘ্রাণে জেলার সর্বত্র জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা। শোভা ছড়াচ্ছে নিজস্ব মহিমায়। সেই সাথে মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে জেলায় প্রায় ৭০ শতাংশ আম গাছগুলো।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সদর উপজেলার কয়েকটি আম বাগান সহ এসময় আরো বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায় এবছর বাগান মালিকদের পাশাপাশি বসতবাড়ির আম গাছ গুলোতেও কুয়াশা ও পোকার আক্রমণে মুকুল যেন নষ্ট না হয় এজন্য বিভিন্ন ধরণের ওষুধ স্প্রে ছাড়াও আরো নানা ধরনের পরিচর্যা করে চলেছেন বাগান মালিক সহ অনেক গৃহস্থরা।

কালীগঞ্জ উপজেলার হক নার্সারি বাগানের মালিক আম চাষি মমিনুর রহমান (৩২) বলেন, ‘এ বছরের আবহাওয়া আমের মুকুলের জন্য বেশ অনুকূল। তাই একটু আগেভাগেই মুকুল এসেছে গাছে। গতবারের মতো এ মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়ার তেমন বিপর্যয়ও ঘটেনি। আশা করছি- ফাগুণের সাথে সাথে সব আম গাছ মুকুলে ভরে উঠবে।

লালমনিরহাট কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিধু ভষণ রায় বলেছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আম গাছে খুব একটা কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হবে না। তবে ছত্রাকজনিত রোগে আমের মুকুল ও গুটি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাগানে দু’ দফা ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। এতে ছত্রাক জাতীয় রোগ থেকে আমের মুকুলগুলো রক্ষা পাবে। সেই সাথে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য