বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পেছনে সরকারের নিস্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছে শ্রীলঙ্কার বিরোধী দলগুলো। বুধবার (৭ মার্চ) জরুরি অবস্থার দ্বিতীয় দিনে দেশটির বিরোধীদল প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার সরকারের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলো।

তাদের দাবি, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের ব্যর্থতা ঢাকতেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।সহিংসতায় ইন্ধনদাতাদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। সংঘাতকবলিত ক্যান্ডি শহরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশেষ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি

সাম্প্রতিক সহিংসতায় গত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত ছিল দেশটির জনপ্রিয় পর্যটন নগরী ক্যান্ডি। গত ফেব্রুয়ারি মাসেও সেখানে বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়। বেশ কয়েকটি দোকান ও মসজিদে হামলা চালানো হয়।

৫ মার্চ ২০১৮ সোমবার ক্যান্ডিতে নতুন করে মুসলিম মালিকানাধীন একটি দোকান জ্বালিয়ে দেয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলী বৌদ্ধরা। মূলত ওই অগ্নিসংযোগ থেকেই দাঙ্গার সূত্রপাত। দাঙ্গায় আহত এক বৌদ্ধের মৃত্যুর পাশাপাশি পুড়ে যাওয়া ভবন থেকে এক মুসলিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এরপর সংঘাত চরম আকার ধারণ করে। সহিংসতা ঠেকাতে সোমবার রাতে ক্যান্ডিতে কারফিউ জারি করা হয়।

মুসলিমরা দাবি করেছে, তাদের ১০টি মসজিদ, ৭৫টি দোকান ও ৩২টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়েছে। বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মুখে সহিংসতা ঠেকাতে সোমবার রাতে ক্যান্ডিতে কারফিউ জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবার ক্রমবর্ধমান সহিংসতার আশঙ্কা জানিয়ে সারাদেশে ১০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করে সরকার।

সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় সরকারকে দোষারোপ করছে বিরোধীদলগুলো। শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী উইকরিমেনসিংঘি নেতৃত্বাধীন ইউএনপি সরকার কান্ডির সাম্প্রদায়িক সমস্যা সমাধানে আগ্রহী নয়। শ্রীলঙ্কান সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের খবরে রাজাপাকসেকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘এটা কোনও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নয়। এতে ইউএনপি’র নিস্ক্রিয়তা ফুটে উঠেছে। সরকার তার দায়িত্ব থেকে দূরে সরে গেছে। কেউ এটার দিকে দেখছে না’।

আরেক বিরোধী দল জানাথা ভিমুক্তি পিরামুনা সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বর্ণবাদের চাষ করার অভিযোগ এনেছেন। দলটির সংসদ সদস্য অনুরা দেশনায়েকে পার্লামেন্টে অভিযোগ করেন, সরকার নিজের ব্যর্থতা ঢাকতেই জরুরি অবস্থা জারি করেছে। তিনি বলেন, মানুষের মনের মধ্যে যতদিন বর্ণবাদের চাষ অব্যাহত থাকবে, ততদিন আমরা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে পারবো না। এই বর্ণবাদ থাকলে দেশ হিসেবে আমাদের ভবিষ্যত ভাল হবে না।

একই কথা বলে আরেক বিরোধী নেতা উইমাল বিরাওয়ানসা অভিযোগ করেন, সরকার দাঙ্গাপ্রবণ এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে নিরাপত্তা দেয়নি যাতে অন্যান্য গুরুত্ব বিষয়গুলো ধামাচাপা দেওয়া যায়। দ্য আইল্যান্ডের খবরে বলা হয়, শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে ১১জন মুসলিম সদস্য রয়েছে। তাদের একজন গৃহায়নমন্ত্রী রিশার্দ বাথিউদ্দিন। তিনি সরকারের কাছে সারাদেশে মুসলিমদের সুরক্ষার নিশ্চয়তা দাবি করেন।

দাঙ্গা দমনের জন্য দেশটির আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য