বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নতুন করে প্রায় ১২শ নিরাপত্তা চৌকি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার। ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু সোমবার দেশটির লোকসভায় নতুন এইসব চৌকি স্থাপনের কথা জানিয়েছেন। সীমান্তে অপরাধ ও অব্যাহত হুমকি প্রতিহত করার স্বার্থে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

রিজিজু আরও জানান, ভারত-পাকিস্তান ও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জন্য ইতোমধ্যে বর্ডার প্রোটেকশন গ্রিড (বিপিজি) গঠন করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস এ খবর জানিয়েছে।

এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে কিরেন রিজিজু বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জন্য এক হাজার ১৮৫টি নিরাপত্তা চৌকি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ভারত-পাকিস্তান ও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বিপিজি গঠন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষসহ অন্য অংশীদারদের সমন্বয়ে গঠিত বিপিজি সীমান্তের ওপার থেকে আসা হুমকিগুলো অব্যাহতভাবে পর্যালোচনা করতে থাকবে। সীমান্তে অপরাধের ধরনসহ অন্যান্য সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করবে বিপিজি।

আর এসবের ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার কৌশল প্রণয়ন করা হবে। সীমান্ত বেষ্টনীর সামনের উপাদান, কার্যকর সীমান্ত অবকাঠামো, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, গোয়েন্দা তথ্য ও পুলিশ এই পাঁচটি ধাপে বিপিজি গঠন করা হয়েছে।

গত মাসে তামিলনাড়ুতে এক অনুষ্ঠানে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান সীমান্তের কিছু কিছু এলাকায় এরইমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে স্মার্ট বর্ডার ফেন্সিং প্রযুক্তি বসানো হয়েছে৷ ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী- বিএসএফের ওপর এই কাজের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷ তারা এই স্মার্ট ফেন্সিং প্রযুক্তি পরীক্ষা করে দেখে বলেছেন, এই প্রযুক্তি খুবই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে৷

চলতি বছরেই বিএসএফ এই বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করবে। তারা আগামী বছরের মধ্যেই স্মার্ট-ফেন্সিংয়ের সঙ্গে তারা কাজে লাগাবে মনুষ্য চালক-বিহীন আকাশযান ইউএভি৷

বিএসএফ প্রধান কে কে শর্মা বলেছিলেন, সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমনে বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-র সঙ্গে ভারতীয় বিএসএফের পারস্পরিক সম্পর্ক খুবই আন্তরিক৷

সীমান্ত অপরাধ দমনে বাংলাদেশিদের নিহত হবার সংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ বর্তমান স্ট্র্যাটেজিতে তাই পরিবর্তন করা হবে না৷

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য