পাপুয়া নিউ গিনির দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য অঞ্চলে ৬.৭ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় মধ্যরাতের একটু পরে বুধবার এই ভূমিকম্পটি হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এই ভূমিকম্পটির এক সপ্তাহ আগে আরো শক্তিশালী আরেকটি ভূমিকম্পে প্রত্যন্ত ওই অঞ্চলের গ্রামগুলো ধ্বংস হয়ে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছিল।

গত সোমবারের ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্রের মাত্র ৩১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে নতুন ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র।

ওই প্রত্যন্ত এলাকায় আগের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছিল দেশটির সরকার ও ত্রাণ সংস্থাগুলো। এরইমধ্যে ফের আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে পরিস্থিতি আরো নাজুক হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রথম ভূমিকম্পটির পর থেকে চলতে থাকা ধারাবাহিক পরাঘাতের মধ্যে বুধবারের পরাঘাতটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল। এতে রাজধানী পোর্ট মোরসবি থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমের ওই খনি সমৃদ্ধ এলাকাটি ভীষণভাবে কেঁপে ওঠে।

ওই অঞ্চলের হেলা প্রদেশের প্রশাসক উইলিয়াম বান্দো জানিয়েছেন, ওই পরাঘাতে প্রাথমিকভাবে ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

তিনি বলেছেন, “ভূমিকম্পটি হাইডসেই সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে কতোজন হতাহত হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু জানতে পারিনি আমরা। সেখানে বড় একটি গ্রাম আছে যেখানে অনেক লোকের বাস।”

পাপুয়া নিউ গিনির খনিজ তেল ও জ্বালানি মন্ত্রী মানাসসেহ মাকিবা বলেছেন, “এখনও লোকজনকে কাদার ভিতর থেকে বের করে আনা হচ্ছে। এখনও অনেককে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।”

সরকার প্রথম ভূমিকম্পে ৫৫ জন নিহত হওয়ার কথা বললেও স্থানীয় গণমাধ্যম নিহতের সংখ্যা ৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে।

উঁচু ওই অঞ্চলটির বহু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ও ভূমি ধসে বহু সড়ক বন্ধ হয়ে থাকায় ত্রাণ উদ্যোগ ব্যাহত হচ্ছিল। এরমধ্যে ফের শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি আরো নাজুক হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত হলে নজিরবিহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে রেড ক্রস।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য