রাশিয়ার সাবেক গুপ্তচর সের্গেই স্কিপালের হঠাৎ গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে রাশিয়ার জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে ‘প্রবল’ প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন।

রোববার দক্ষিণ ইংল্যান্ডের সলসবারি শহরের একটি শপিং সেন্টারের বেঞ্চে ৬৬ বছর স্ক্রিপাল ও তার ৩৩ বছর বয়সী কন্যা ইউলিয়াকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পাওয়া যায়; তারপর থেকে তারা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছে বলে খবর বিবিসির।

তদন্ত যে পর্যায়ে আছে, এই পর্যায়ে কারো দিকে আঙ্গুলি নির্দেশ করছেন না উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনসন বলেছেন, “রাশিয়া একটি ক্ষতিকর ও ঐক্যবিনাশি শক্তি।”

সন্দেহ সত্বেও ওই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে রাশিয়া।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, সলসবারির ঘটনা নিয়ে বুধবার সরকারের জরুরি কমিটি কোবরার একটি বৈঠকে হবে, এতে সভাপতিত্ব করবেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রুড।

ব্রিটিশ কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশ উইল্টশায়ার পুলিশের কাছ থেকে ঘটনার তদন্তভার বুঝে নিয়েছে। তদন্তভার বুঝে নিলেও ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী ঘটনা’ ঘোষণা করা হয়নি এবং এ ঘটনায় জনগণের জন্য ‘কোনো ঝুঁকি নেই’ বলে এক বিবৃতিতে আশ্বস্ত করেছে তারা।

রাশিয়ার সাবেক গুপ্তচর কর্নেল স্ক্রিপাল ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার চরে পরিণত হওয়ার অভিযোগ রাশিয়ার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সেখানে বিচারে তার ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল।

কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্র তথা পশ্চিমা শক্তিগুলো ও রাশিয়ার হাতে আটক পরস্পরের গুপ্তচর বদলাবদলির সময় মুক্তি পেয়ে স্ক্রিপাল ব্রিটেনে এসে বসবাস করছিলেন।

বিবিসি জানিয়েছে, স্ক্রিপালের স্ত্রী, তার বড় ভাই ও তার পুত্র গত দুই বছরের মধ্যে মারা গেছেন। রহস্যময় পরিস্থিতিতে এদের সবার মৃত্যু হয়েছে বলে বিশ্বাস করে রাশিয়ার থাকা স্ক্রিপালের অন্যান্য স্বজনরা।

স্ক্রিপালের কন্যা ইউলিয়াও মস্কোতে বসবাস করেন। কিন্তু বাবাকে দেখতে নিয়মিত যুক্তরাজ্যে যান, বিশেষ করে গত দুই বছর ধরে।

অসুস্থ হয়ে পড়ার মাত্র কিছুক্ষণ আগে পিতা-কন্যাকে পুলিশের প্রকাশ করা সিসিটিভি ফুটেজে ওই এলাকার জিজি রেস্তোরাঁর সামনের গলি ধরে হেঁটে আসতে দেখা গেছে।

ওই ঘটনার পর পূর্ব সতর্কতা হিসেবে ওই রেস্তোরাঁটি ও পাশের বিশপ’স মিল পাব বন্ধ করে দিয়ে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা ঘেরাও আরও বাড়িয়ে সংলগ্ন একটি সেতুও বন্ধ করে দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী জেমি পেইন জানিয়েছেন, যে নারীকে (ইউলিয়া) তিনি দেখেছেন সে মারা গেছে বলে তার মনে হয়েছে, তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল এবং তার চোখ ‘পূর্ণভাবে খোলা কিন্তু পুরোপুরি সাদা হয়েছিল’।

তিনি বলেন, “পাশের লোকটি শক্ত হয়ে গিয়েছিল, তার হাতের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তিনি সোজা সামনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।”

এ ঘটনায় দুই পুলিশ বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মৃদু কিছু লক্ষণের চিকিৎসার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় আরেকজন, জরুরি বিভাগের এক সদস্য এখনও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

‘অজ্ঞাত যে বস্তুর সংস্পর্শে’ স্ক্রিপাল ও তার কন্যা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তা পরীক্ষা করে দেখছেন উইল্টশায়ারের পোর্টন ডাউনে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের গোপন অস্ত্র গবেষণা স্থাপনার বিজ্ঞানীরা। তারা এখনও ওই ‘অজ্ঞাত বস্তুটি’ শনাক্ত করতে পারেননি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য