বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আরাজী বোচাপুুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যসহ এলাকাবাসী।

চাকুরীচ্যুত প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রৌফ জানান (মোবাইল-০১৭১০৮৬৮৬৭৪) জানান, ১৯৯৫সালে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিগণ আরাজী বোচাপুুকুর উচ্চ বিদ্যালয় নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ২০০০সালে আমাকে অবৈধ ভাবে বিদ্যালয় হতে চাকুরীচ্যুত করা হয়।

চার দলীয় জোট ক্ষমতার আসার পর জোটের শরীক জামায়াত ইসলামী মনোনিত এমপি অধ্যাপক আব্দুল্ল্যাহ হেল কাফীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে তৎকালিন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মোঃ আজিজুল ইসলাম (ক্বারী) সভাপতির পদে আসীন হয়। বিদ্যালয়টিকে দলীয় ভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করে তৎকালীন ক্ষমতাসীন জোটের শরীক জামায়াত ইসলামী নেতাকর্মীরা।

নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করেই বিধি বহির্ভূত ভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করেন। পরে জ্যেষ্ঠতা লংঘন করে তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতায় বিদ্যালয়টি বর্তমানে শিক্ষার মান এবং পরিবেশ নাজুক।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য শ্রী মৃত্যুঞ্জয় বর্মন (মোবাইল-০১৭৬৭৪২০৮৯২) জানান, এলাকায় শিক্ষিত মানুষ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৯৫সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে একটি মহল। তারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে প্রভাব খাটিয়ে কমিটির পদ দখল করে। পরে নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করেই প্রধান শিক্ষককে চাকুরীচ্যুত করা হয়। সম্পূর্ণ বিধি বহির্ভূত ভাবে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করেন এবং জ্যেষ্ঠতা লংঘন করে তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতায় বিদ্যালয়টি বর্তমানে শিক্ষার মান এবং পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করি এবং বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি প্রদান প্রদান করেছি।

অভিয়োগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, ২০০৪সালে আমি বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাই। পরে আমাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। আমি যোগদানের পুর্বেই প্রধান শিক্ষককে চাকুরীচ্যুত করা করা হয়েছে। আমি যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ে কোন নিয়োগ প্রদান করা হয়নি। এ কারণে আমার কোন দুর্নীতি করা সুযোগ নেই। তাই আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অসত্য।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য