আফ্রিকার দেশ নাইজারে মার্কিন সেনাদের ওপর একটি হামলার ভিডিও প্রকাশ করেছে জঙ্গি সংগঠন আইএস। সংগঠনটির প্রচারণামূলক ভিডিওতে সেনাদের ওপর একটি গেরিলা হামলা দেখানো হয়েছে। সেখানে মার্কিন সেনাদের অরক্ষিত ও অসহায় অবস্থা নিয়ে সমালোচনার ‍মুখে পড়েছে পেন্টাগন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবরের ওই হামলার সময় গাড়ি বহরে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর ১২ সদস্যের পাশাপাশি নাইজারের ৩০ সেনা সদস্য ছিলেন। তারা মালি সীমান্তের কাছে টঙ্গো টঙ্গো গ্রাম থেকে ফেরার পথে হামলার শিকার হন। হামলায় প্রায় ৫০জন আইএস সদস্য অংশ নেয়। তারা ছোট ছোট আগ্নেয়াস্ত্র ও গ্রেনেড নিয়ে হামলা চালায়। এতে চার মার্কিন সেনা ও ৫ নাইজার সেনা নিহত হন।

আইএসপন্থী একটি সংবাদ সংস্থা প্রকাশিত ভিডিওটি এক মার্কিন সেনার হেলমেটের সঙ্গে থাকা ক্যামেরায় ধারণ করা। এতে হামলার সময় আতঙ্কিত হৈ-চৈ দেখা যায়। ভিডিও ধারণকারী সেনাও ওই হামলায় নিহত হন। ভিডিওতে দেখা যায়, জঙ্গিরা তার শরীরের ওপর দিয়ে পার হয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন সামরিক সদর দফতর পেন্টাগন থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, তারা এসব ছবি ও আইএসের ভিডিও বিষয়ে সতকর্ অবস্থান নিয়েছে। এ ধরনের বিষয় ছড়ানোই আমাদের শত্রুদের ভয়াবহতার বিষয়টি প্রমাণ করে।

৯ মিনিটের ওই ভিডিওতে আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদীর ছবি ও মরুভূমির মধ্য দিয়ে চলা গাড়ির ফুটেজও রয়েছে। এসব গাড়ির একটিতে আইএসের পতাকা ছিল। অন্যগুলোতে জঙ্গি সদস্যদের দেখা যায়।

ওই সময় সেনারা একটি কম ঝুঁকিপূর্ণ টহলে নিয়োজিত ছিল। হামলার তুলনায় তাদের কাছে থাকা অস্ত্রগুলোও দুর্বল ছিল। ফুটেজে দেখা যায়, মার্কিন সেনারা শুধুমাত্র হালকা অস্ত্রের পোশাক পরা ছিল। হামলার সময় ভারী ‍গুলিবর্ষণের মুখে তারা সাধারণ গাড়িগুলোর আড়ালে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিল। ওই সময় লুকানোর জন্য লাল ধোয়ার গ্রেনেডও নিক্ষেপ করেছিল সেনারা। কিন্তু মরুভূমির সমান ভূমি ও বালুর মধ্যে তা তেমন কোনও কাজে আসেনি।

ভিডিও’র এক পর্যায়ে দেখা যায়, এক মার্কিন সেনা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার সহযোদ্ধা তাকে গাড়ির আড়ালে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আক্রান্ত হওয়ার পর বৈরী পরিস্থিতিতে তাদের লুকানো ছাড়া কোনও উপায় ছিল না। কিন্তু সেখানে লুকানোর মতো জায়গাও ছিল না।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের কংগ্রেস সদস্য মার্ক ভিয়াসেই সিবিসি নিউজকে বলেন, ‘এই ধরনের মিশনের অংশ নেওয়া ও শেষ করার জন্য তাদের (সেনাদের) এসব অস্ত্র দেওয়া হয় শোনার পর আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না’। এই হামলার বিষয়ে কোনও আগাম তথ্য দিতে না পায় গোয়েন্দা ব্যর্থ নিয়েও কথা উঠেছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে হামলার পর সেনারা কেন তাৎক্ষণিক ব্যাকআপ পায়নি বা বিমান সহায়তা পায়নি তা নিয়েও।

নাইজারে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে মার্কিন বাহিনী যৌথ টহলে অংশ নিচ্ছে। তারা সেখানে নাইজার বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তিলাবেরি অঞ্চলে তারা মোটরসাইকেল ও গাড়িতে করে আসা জঙ্গিদের হামলার শিকার হয়। এই ঘটনায় পেন্টাগন ইতোমধ্যে একটি তদন্ত শেষ করেছে। তদন্তের প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস প্যাটিসের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য