রাশিয়ার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে অভিযুক্ত দেশটির এক সাবেক গোয়েন্দাকে যুক্তরাজ্যে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, রাশিয়ার সাবেক গোয়েন্দা সের্গেই স্ক্রিপালকে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছিল রাশিয়া।

ব্রিটিশ পুলিশ জানিয়েছে, রোববার দক্ষিণ ইংল্যান্ডের সলসবারি শহরের একটি শপিং সেন্টারের বেঞ্চে ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও ৩৩ বছর বয়সী এক নারীকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পাওয়া যায়; তারা ‘অজ্ঞাত বস্তুর সংস্পর্শে’ আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তারা দুজনেই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে আছেন বলে জানিয়ে ব্রিটিশ পুলিশ বলেছে, তারা বিষয়টিকে একটি ‘বড় ঘটনা’ বলেই মনে করছে।

ব্রিটিশ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই দুজনের নাম প্রকাশ না করলেও তদন্ত সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, গুরুতর অসুস্থ ওই বৃদ্ধই স্ক্রিপাল। তবে কিসের ‘সংস্পর্শে’ তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ফ্রিয়া চার্চ নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেছেন, “বেঞ্চের মধ্যে এক জুটি বসে ছিল। এক বৃদ্ধ লোক ও এক তরুণী। তরুণীটি বৃদ্ধের শরীরে গা এলিয়ে ছিল, দেখে মনে হচ্ছিল তরুণীটি সম্ভবত মারা গেছেন। অপরদিকে বৃদ্ধটি আকাশের দিকে তাকিয়ে অদ্ভুতভাবে হাত নাড়ছিলেন।

“তাদের দেখতে এতটাই অস্বাভাবিক লাগছিল যে কাছে গিয়েও তাদের কীভাবে সাহায্য করবো তা নিশ্চিত হতে পারছিলাম না, তাই তাদের রেখেই চলে আসি আমি। দেখে মনে হয়েছে তারা অত্যন্ত কড়া কোনো কিছু গ্রহণ করেছিল।”

স্ক্রিপাল একসময় রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ জিআরইউ-য়ের কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা ছিলেন। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তিনি বহু রুশ গোয়েন্দার পরিচয় ফাঁস করে দিয়েছেন- এই সন্দেহে ২০০৪ সালে তাকে গ্রেপ্তার করে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) । বিচারের পর ২০০৬ সালে তার ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়।

কিন্তু ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আটক মস্কোর ১০ গোয়েন্দার সঙ্গে রাশিয়ায় আটক পশ্চিমা গোয়েন্দাদের বদলাবদলির অংশ হিসেবে তাকে মুক্তি দেন রাশিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ।

১৯৯১ সালে শীতল যুদ্ধ শেষের্ পর হওয়া সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা বদলাবদলির ওই ঘটনাটি ঘটেছিল ভিয়েনা বিমানবন্দরের টারমাকে। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দুটি জেট বিমান পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ওই গোয়েন্দা বদলাবদলির কাজটি সারে।

তারপর থেকে স্ক্রিপাল ব্রিটেনেই বসবাস করছিলেন এবং রোববার উইল্টশায়ারের একটি বেঞ্চে অদ্ভুত অবস্থায় পাওয়ার আগ পর্যন্ত সবার মনোযোগের অগোচরেই ছিলেন।

এর আগে ২০০৬ সালে সাবেক কেজিবি গোয়েন্দা আলেকজান্দার লিটভিনেঙ্কোকে তেজস্ক্রিয় পোলোনিয়াম-২১০ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল। লন্ডনের মিলেনিয়াম হোটেলে তার চায়ের সঙ্গে ওই তেজস্ক্রিয় বস্তু মিশিয়ে দেওয়া হয়।

লিটভিনেঙ্কোর অসুস্থতার কারণ বের করতেও ব্রিটিশ চিকিৎসকদের সময় লেগেছিল।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কড়া সমালোচক ৪৩ বছর বয়সী লিটভিনেঙ্কো দেশ থেকে পালিয়ে ব্রিটেনে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক নাজুক হয়ে রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য