বিশ্বজুড়ে বাল্য বিয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমছে বলে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, ইউনিসেফের হিসাবমতে গত এক দশকে প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ শিশু বিয়ের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছ।

বর্তমানে ১৮ বছরের নিচে বিশ্বের প্রতি পাঁচটি শিশুর মধ্যে একজনকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হচ্ছে, দশককাল আগেও এ অনুপাত ছিল চারটি শিশুর মধ্যে একটি।

বাল্যবিয়ে হ্রাসের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো অনেক এগিয়ে গেছে বলেও জানিয়েছে ইউনিসেফ। ভারতে মেয়েদের জন্য উন্নত শিক্ষা এবং বাল্য বিয়ের কুফল নিয়ে জোরালো প্রচারণার কারণে এ সফলতা এসেছে।

ইথিওপিয়ায় বাল্য বিয়ের হার এক-তৃতীয়াংশ কমে যাওয়ার পরও আফ্রিকা মহাদেশে সমস্যাটি এখনও প্রকট বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক এ সংস্থার জেন্ডার বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা আঞ্জু মালহোত্রা বলছেন, বাল্য বিয়ে মেয়েদের জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য দায়ী।

‍”এই হার কমার যে কোনো খবরই সুসংবাদ, যদিও আমাদের অনেক দূর যেতে হবে,” বলেছেন তিনি।

শিশু অবস্থায় জোর করে দেওয়া বিয়ের কারণে মেয়েদের তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় ভুগতে হয় বলেও জানান এ বিশেষজ্ঞ।

“স্কুলের শিক্ষা শেষ করার প্রবণতা কমতে থাকে, বাড়তে থাকে স্বামীর হাতে নির্যাতন ও গর্ভকালীন জটিলতার আশঙ্কা। আছে বড় ধরণের সামাজিক কুফল; প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাড়ে দারিদ্র্যের ঝুঁকি,” বলেন আঞ্জু।

ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাল্য বিয়ের বোঝা এখন সাব-সাহারান আফ্রিকান দেশগুলোতে স্থানান্তরিত হয়েছে; যেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধিহার কমাতেও আরও অগ্রগতি প্রয়োজন।

এক দশক আগেও সাব-সাহারান দেশগুলোর প্রতি পাঁচটি শিশুর একটি বাল্য বিয়ের শিকার হতো; এ সংখ্যা এখন প্রতি তিন শিশুর একটিতে এসে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্বনেতারা ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব থেকে বাল্য বিয়ে নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

‘ধ্বংসাত্মক চর্চার হাত থেকে কোটি কোটি শিশুর শৈশব রক্ষা করে’ ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে সব দেশ ও নেতৃত্বের প্রচেষ্টার মাত্রা আরও অনেকখানি বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য আঞ্জুর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য