মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের হাসপাতাল মোড়ে প্রায় আড়াই তিন বছর যাবৎ ফুচকা বিক্রি করেন- মোঃ হাবিবুর রহমান মোল্লা। তিনি নড়াইল জেলার দিঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ফুকচা খেতে গিয়েই কথা হয় ফুচকা বিক্রেতা- হাবিবুর মোল্লার সাথে মোটর-সাইকেলে চ্যানেল নাইন লোগো দেখে বলেন আপনিতো সাংবাদিক তাই না আমার যদি একটা নিউজ করতে পারতেন।

বলেন কি বিষয়, হাবিবুর মোল্লা জানান, ২০০৪ সালের ১১ডিসেম্বর মাসে ”নুর তাজ রেজা” নামের ৭ বছর বয়সের আমার ছেলেটি ভরারী বটতলা ঢাকা সাভার থেকে হারিয়ে যায়। হারানোর সময়ে তার পরনে ছিল খয়েরি রংয়ের হাফ শার্ট ও সাদা কালো হাফ প্যান্ট। ছেলের কথা বলতে বলতেই কেদে ফেলেন হাবিবুর মোল্লা, তিনি বলেন আপনাদের মাধ্যমে আমি যদি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে পারি।

জানতে চাইলাম তখন কি থানায় কোন হারানো ডায়েরি করেছিল কিনা? বলে উঠলেন আমার তো কোন কিছুই ঠিক ছিল না, কি-করবো না করবো ভেবে পাই নাই, তাই ছেলেকে খুজতে ব্যকুল ছিলাম, না পেয়ে দিসেহারার মত অবস্থা, তাই থানায় জানাতে পারি নাই। কোথাও কোন মিসিং ডায়েরিও করতে পারি নাই, আমার ছেলে বেচে থাকলে আপনাদের নিউজটি প্রত্রিকা বা টিভিতে দেখত, তাহলে হতেও পারে আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতাম।

জানতে চাইলাম যেহেতু আপনার গ্রামের বাড়ি নড়াইল জেলার দিঘলিয়ায় পীরগঞ্জে কিভাবে আসা, আমি ঢাকার সাভারে মুদি দোকান করতাম আর সেখানেই থাকতাম প্রথম স্ত্রী মারা গেলে সেই পক্ষের দুটি সন্তান একটি নুপুর আর রেজাকে নিয়ে সুখে দুখে দিনাতিপাত করছিলাম, হঠাৎ করেই রেজা হারিয়ে গেলে আর কোন কিছুতেই মন বসাতে পারিনাই ভাল মন্দ নিয়েই চলছিল, ছেলেকে ফিরে পাবার আশায় ছিলাম।

আমার প্রথম পক্ষের মেয়ে নুপুর আমার ঘটকালি করে ২য় বিয়ে দেয়, তার বাবার বাড়ি পীরগঞ্জে রেলগেটে, বিয়ের কিছু দিনপরেই আমরা ২০১৬ সালে এখানে চলে এসে আমি ফুচকা চটপটি বিক্রি করেই চলছে আমার সংসার। আজ প্রায় ১৪বছরে পা দিয়েছে আমার ছেলেকে হারিয়েছি, রেজার ছবিটি দেখতে দেখতে কান্নাজন্নিত কন্ঠে বরছিলেন আমার রেজা শুধু আমার কাছেই শশুধুই এখন ছবি। খুব এখনও তার বয়সের ছেলেদের দেখলে খুব ইচ্ছে করে আমি যদি আমার রেজাকে ফিরে পেতাম।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য