গাইবান্ধার সাঘাটায় আলু চাষে সবুজ সার ও ভার্মি কম্পোষ্ট প্রয়োগ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। সবজি আবাদে শুধু রাসায়নিক সারের উপর ভরসা না করে উৎপাদন খরচও কমেছে তাদের। ইতোপুবের্র ধারনা থেকে বেড়িয়ে এসে এখন শুধু সবুজ সার আর কম্পোষ্ট ব্যবহারে অধিক ফলন পাচ্ছেন কৃষক।

উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের পুটিমারী গ্রামের কৃষক আমির আলী তার ৬৫ শতাংশ একটি পতিত জমিতে গত অগ্রহায়ণ মাসে কাটিলাল জাতের আলু চাষ করেন। জমি তৈরির সময় রাসায়নিক সার প্রয়োগ না করে ওই জমিতে অনেক আগে থেকেই সবুজ সারের জন্য ধইঞ্চা বীজ বপন করেন তিনি।

জমিতে আলু লাগানোর আগে ধইঞ্চা সবুজ সারের জন্য মাটিতে দেওয়া হয়। এভাবে নিজস্ব তৈরি করা ভার্মি কম্পোষ্ট ও গোবর জমিতে চাষের পূর্বে মিশিয়ে দিয়ে আলু বীজ রোপণের পরপরই চারা গাছ আকর্ষণীয় ও বড় হয়ে ওঠে। এতে আলুর গাছ পরিপক্ষ হয়ে ওঠে। মাত্র ৬৫ শতাংশ জমিতে ওই কৃষকের আলু হয়েছে ২শ’ মণ। প্রতিটি আলু ২শ’ থেকে ৩শ’ গ্রাম পর্যন্ত ওজন হয়েছে।

কৃষক আমির আলী জানান, এই সার দিয়ে আলুর গাছ এত বড় হয় যে, আশেপাশের গ্রামের কৃষকরা ওই জমি দেখার জন্য ভীড় জমাতে থাকে। জমিটিতে আলুর চাষাবাদ করতে বীজ, ভার্মি কম্পোষ্ট সার, গোবর ও সবুজ সার সহ উৎপাদন খরচ বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা।

বর্তমানে আলুর বাজার দর হিসেবে ২শ’ মন আলুর দাম প্রায় এক লাখ টাকা। একই প্রযুক্তিতে উপজেলার অন্যান্য এলাকায় প্রায় এক’শ কৃষক আলু চাষ করে ভালো ফলন হওয়ায় লাভবান হয়েছেন। কৃষকরা জানান, কোন রকম রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই এখন সবজির আবাদ সম্ভব।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোবিনুজ্জামান চৌধুরি বলেন, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সবুজ সার ও কম্পোষ্ট ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করণের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ সারের ব্যবহার বাড়ছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য