লোহিত সাগরে অবস্থিত দু’টি কৌশলগত দ্বীপের মালিকানা সৌদি আরবকে হস্তান্তরের চুক্তিটি বহাল রাখার পক্ষে রায় দিয়েছে মিসরের সুপ্রিম কোর্ট। শনিবার (৩ মার্চ) আদালতের রুলে বলা হয়, সৌদি আরবের কাছে তিরান ও সানাফির দ্বীপ হস্তান্তরের সিদ্ধান্তটি অসাংবিধানিক নয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খবরটি জানিয়েছে।

মিসর ও সৌদি আরবের মধ্যবর্তী এলাকায় তিরান ও সানাফির দ্বীপ দুটি অবস্থিত। নির্দিষ্ট মালিকানাধীন না থাকলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকায় এ দ্বীপগুলোর অবস্থান। ২০১৬ সালে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজির আল সৌদ মিসর সফরে যান এবং দেশটিতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ ও ঋণ প্রদানের ঘোষণা দেন।

সেসময় মিসরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি সৌদি আরবকে তিরান ও সানাফির দ্বীপের মালিকানা হস্তান্তরের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, রিয়াদ ও কায়রোর মধ্যে স্বাক্ষরিত সমুদ্রসীমা বিষয়ক এক চুক্তিতে ‘তিরান’ ও ‘সানাফির’ দ্বীপ দু’টি সৌদি পানিসীমার মধ্যে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট সিসি’র এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার মিসরীয় রাস্তায় নেমে আসেন।

ওই চুক্তিকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে তা প্রত্যাখ্যান করেন তারা। মিসরের দুটি নিম্ন আদালতও সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিকে বাতিল বলে ঘোষণা করে। আদালতের রায়ে বলা হয়, তিরান ও সানাফির দ্বীপের ওপর মিসরের সার্বভৌমত্বের অধিকার ত্যাগ করা যাবে না। মিসর সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করে। তবে শনিবার নিম্ন আদালদের রায়গুলো নাকচ করে দিয়ে চুক্তির সিদ্ধান্তটি বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট।

মিসরের সর্বোচ্চ আদালতের দাবি, দ্বীপ দুটি হস্তান্তরের চুক্তিটি অসাংবিধানিক নয়। চুক্তি অনুমোদনের বিষয়টি মিসরের আইন প্রণেতাদের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করে বলে রুলে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, দ্বীপ দুটির হস্তান্তর নিয়ে গত বছর মিসরের পার্লামেন্টে বিতর্ক হয় এবং চুক্তিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পর মিসরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসিও এটি অনুমোদন করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য