নীলফামারীর সৈয়দপুর ২০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা দীর্ঘদিন থেকে বসবাস না করায় এখন আবাসিক এলাকা মাদকসেবী ও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি কোয়ার্টারগুলোর মুল্যবান দরজা-জানালা ও ফিটিংস চুরি হয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, ১৯৫৬ সালে সৈয়দপুর শহরের উত্তরাংশে পুর্ব বোতলাগাড়ি মৌজায় প্রায় ৬১ একর জমি অধিগ্রহন করে তাতে গড়ে তোলা হয় ১০ মেগাওয়াট ডিজেল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। পরে কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বসবাসের জন্য ১৯৬৮ সালে ৩০ ইউনিটের ৩টি চারতলা ও ১টি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়।

এরপর ১৯৮৮ সালে নতুন করে ২০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়। এতে জনবলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কর্মকর্তাদের আরো ১২ ইউনিটের ২টি দ্বিতল ভবন ও কর্মচারিদের জন্য ৩২ ইউনিটের ৪টি চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে পুরাতন ২টি ৪ তলা ভবন রাখা হয় ব্যাচেলরদের জন্য। এদিকে, অব্যাহত লোকসানের কারণে ২০০৮ সালে ডিজেল চালিত ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেয় সরকার।

ফলে এর আওতাধীন সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিরা অন্যত্র বদলী করা হয়। আরও জানা যায়, বিশাল আবাসিক এলাকায় কর্মচারিদের জন্য কোয়ার্টার ও কর্মকতাদের জন্য অফিসার কোয়ার্টারে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের ৪টি দ্বিতল ভবন ও কর্মচারিদের ৪টি চারতলা ভবন পরিত্যক্ত হয়েছে। দেখা যায়, সীমানা প্রাচীর ঘেরা হলুদ রঙের ৪তলা আবাসিক ভবনগুলোর পুরোটাই ফাকা।

এর ১৬টি ইউনিটে কয়েকটি তালাবদ্ধ থাকলেও বাকিগুলো খোলা পড়ে আছে। এর পাশে লাল রঙের দ্বিতল ভবনগুলোর অবস্থা একই। ভবনগুলোর অধিকাংশর দরজা, জানালা,বিভিন্ন ফিটিংস চুড়ি হয়ে গেছে। ভবনগুলোর ভিতরে ময়লা-আবর্জনার স্তুুপ আর বাইরে প্রাঙ্গন ঢেকে গেছে ঝোঁপ-ঝাঁড়ে। প্রবেশ পথে পুলিশ ও নিরাপত্তা প্রহরী রয়েছে।

কর্মচারিদের একটি সুত্র জানায়, বাসা ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ কর্মচারি শহরের বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। আবার নামমাত্র ভাড়া হওয়ায় অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে উঠেছেন ব্যাচেলর কোয়ার্টারে। কর্মকর্তারাও একই কারণে কোয়ার্টার বরাদ্দ না নিয়ে বছরের পর বছর বসবাস করছেন বিভাগীয় রেষ্ট হাউজে (বিশ্রামাগারে)।

এ কেন্দ্রের প্রধান ব্যবস্থাপক (নির্বাহী প্রকৌশলী) তার আবাসিক ভবনে না থেকে অন্যান্য কর্মকর্তারাও বসবাস করছেন রেস্ট হাউজে। এজন্য মাত্র ৪শত টাকা মাসিক বিল ব্যয় করতে হয় তাদের। সৈয়দপুর বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগের সাধারন সম্পাদক (সিবিএ নেতা) মোঃ কামরুজ্জামান সরকার ক্ষোভের সাথে বলেন, এ বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী তার নির্ধারিত সরকারি বাসভবনে বসবাস করেন না।

তিনি বাইরে থেকে এসে সপ্তাহে দু’একদিন অফিস করেন। বিশেষ প্রয়োজনে সৈয়দপুরে থাকতে হলে তিনি রেস্ট হাউজে অবস্থান করেন। আর এ কারণে কর্মচারিরা ইচ্ছেমত তাদের দায়িত্ব পালন করছে। সহকারি প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে পারবোনা। আপনারা স্যারের সাথে কথা বলেন।

এ ব্যপারে সৈয়দপুর ২০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (নির্বাহী প্রকৌশলী) মোঃ আবুল কালাম আজাদের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া না যাওয়ায় মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য