দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টার দায়িত্বপালনকারী হোয়াইট হাউসের জনসংযোগ সচিব হোপ হিকস পদত্যাগ করছেন।

২৯ বছর বয়সী সাবেক মডেল ও ট্রাম্পের নিজের প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মী হিকস গত কয়েক বছর ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাশে ছায়ার মত ছিলেন।

সহকর্মীদের কাছে এ শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, হোয়াইট হাউসে যা যা অর্জন করা যায় তার সবই পেয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে হিকস ছিলেন হোয়াইট হাউসের চতুর্থ জনসংযোগ প্রধান। বুধবার মার্কিন প্রশাসন তার পদত্যাগের খবর দেয় বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেছেন, ঘোষণা দিলেও হোপস কবে দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন তা অনিশ্চিত। পদত্যাগে ঘোষণার সঙ্গে মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের গোয়েন্দা কমিটিতে দেওয়ার জনসংযোগ প্রধানের সাক্ষ্যের কোনো সংযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সাক্ষ্যে হিকস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হয়ে মাঝে মাঝে `ক্ষতিকর নয় এমন মিথ্যা’ বলার কথা জানালেও ২০১৬-র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ বিষয়ে মিথ্যা বলার কথা অস্বীকার করেছেন।

দুই বছর আগে ওই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় হিকস রিপাবলিকান শিবিরের প্রেস সচিব ছিলেন। গত বছরের অগাস্টে অ্যান্থনি স্কারামুচিকে বরখাস্তের পর হিকসকে হোয়াইট হাউসে নিয়ে আসা হয়।

এর আগে শন স্পাইসার এবং মাইক ডাবকিও জনসংযোগ সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

“হোপ ছিলেন অসাধারণ, গত তিন বছর ধরে তিনি চমৎকার কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন স্মার্ট ও চিন্তাশীল, একজন চমৎকার ব্যক্তি ছিলেন তিনি। পাশে তার অভাব অনুভূত হবে, কিন্তু যখন তিনি আমাকে অন্যান্য সম্ভাবনার বিষয়ে বললেন, আমি বুঝতে পারলাম। আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতেও আমরা একসঙ্গেই কাজ করব,” হিকসের পদত্যাগের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বলেন ট্রাম্প।

২০১৬-র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ট্রাম্প শিবিরের সঙ্গে মস্কোর যোগসাজশ বিষয়ে চলমান তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে হিকসকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার গোয়েন্দা কমিটিতে নয় ঘণ্টা সাক্ষ্য দেন তিনি। এ সময় ট্রাম্প টাওয়ারে রুশ আইনজীবীর সঙ্গে রিপাবলিকান শিবিরের কর্মকর্তাদের বৈঠকের বিষয় নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি বলে খবর মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর।

সিনেট কমিটির প্রভাবশালী সদস্য রিচার্ড ব্লুমেন্থাল বলেছেন, কমিউনিকেশন্স সেক্রেটারির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ায় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিকস আর নির্বাহী সুবিধার অধিকার দাবি করতে পারবেন না। যে কারণে তার ফের সাক্ষ্য নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য এ ডেমোক্রেট সিনেটরের।

এ মাসের শুরুতেও হোয়াইট হাউসের স্টাফ সেক্রেটারি রব পোর্টার সংশ্লিষ্ট খবরে হিকসের নাম এসেছিল। সাবেক দুই স্ত্রী পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ করার পর হোয়াইট হাউসের পদ ছেড়ে দেওয়া রব পোর্টার সেসময় হিকসের সঙ্গে প্রেম করছিলেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল।

অভিযোগ ওঠার পরও হোয়াইট হাউসের প্রাথমিক বিবৃতিতে পোর্টারের পক্ষে সাফাই গাওয়া হয়েছিল। ওই বিবৃতিতে হিকসের হাত ছিল বলে ধারণা করা হয়, যা নিয়ে ট্রাম্পও পরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য