জ্যেষ্ঠ এক পুলিশ কর্মকর্তার তীব্র বিরোধিতার পর মন্দিরের আচার অনুষ্ঠানে পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সী ছেলেদের চামড়ায় বড়শি ফোটানোর ঘটনা নিয়ে ভারতজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

দেশটির এক কারাপ্রধান শ্রীলেখা রাদাম্মা গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এক ব্লগে বড়শিবিদ্ধ করার ঘটনাকে শিশুদের ওপর ‘বর্বর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন’ অ্যাখ্যা দেন বলে খবর বিবিসির।

ধর্মের নামে এ চর্চা ভারতীয় আইনে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবেও গণ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কেরালার থিরুভানানথাপুরামের আতুত্কল ভগবতি মন্দিরের বার্ষিক ওই আচার অনুষ্ঠান নিয়ে ব্লগে সমালোচনা করেন শ্রীলেখা। যেখানে বালক বয়সীদের বাহুর নিচের অংশের চামড়ায় সরু লোহার বড়শি বিদ্ধ করার পর বড়শিটি বেধে রাখা হয়। কিছু সময় পর বড়শিটি খুলে ফেলে জখমের স্থানে ছাই মাখিয়ে দেওয়া হয়।

এই অনুষ্ঠানটি কেরালায় কুথিয়োত্তম নামে পরিচিত।

পুলিশ কর্মকর্তা সমালোচনা করলেও মন্দিরটির এক কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, আচার অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তারা কাউকে ‘বাধ্য করছেন না’।

মন্দিরের প্রধান চন্দ্রশেখর পিল্লাই বলেছেন, বড়শির মতো দেখতে হুকটি শিশুদের চামড়ার উপরিভাগে ছোট গর্ত তৈরি করলেও ‘বাচ্চারা কখনোই ব্যাথা পাবে না’।

কুথিয়োত্তম নিয়ে ভারতজুড়ে সমালোচনা চললেও মন্দিরের কর্মকর্তারা এ আচার অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

মন্দিরের অনুসারীদের সন্তানরা জীবদ্দশায় একবারই সাতদিনের এ ‘ব্রত পালন’ করে, যার মধ্যে হুকবিদ্ধ হওয়া ছাড়াও আছে মাটিতে ঘুমানো ও এক হাজার ৮টি সিজদা।

শ্রীলেখা বলছেন, পরিচিত একজনের সন্তান এমন অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সী ছেলেদের বড়শিবিদ্ধ করার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেননি।

“ছেলেদের দলের মধ্যে থাকা তার দিকে যতবারই আমি তাকাচ্ছিলাম, ততবারই তাকে বিমর্ষ লাগছিল। ছেলেগুলোর চেহারা বলির ছাগলের মতো লাগছিল,” বলেন কারাপ্রধান।

ছেলেটির বাবাকে তার সন্তানের অসুখী চেহারার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বড়শি ফোটানোর বিষয়ে বলেন বলে জানিয়েছেন শ্রীলেখা।

“এটা আমাকে তীব্র ধাক্কা দিল। দেখলাম, যাদের সঙ্গেই এ ধরনের শিশু নির্যাতন নিয়ে কথা বলছি, তারা কেউই এর প্রতিবাদ করেনি, করবে এমন পরিকল্পনাও নেই। কে অভিযোগ করবে? বাবা-মা করবে না, যারা এটি দেখছে তারাও করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না এ বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়,” ব্লগে লেখেন তিনি।

আতুত্কল ভগবতি মন্দিরের প্রধান পিল্লাই জানান, বছরের পর বছর কোনো সমস্যা ছাড়াই এ আয়োজন চলে আসছে। যদিও কুথিয়োত্তম ঠিক কতদিনের পুরনো, তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

মন্দিরটি নিয়ে বই লেখা এক ভক্তও জানান, তিনি কখনোই তার সন্তানকে এ কষ্টকর অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে দেবেন না।

“ব্যাপারটা দেখতে খুবই কষ্টদায়ক। আমিও একজন ভক্ত, কিন্তু আমি কখনোই আমার সন্তানকে সেখানে পাঠাবো না,” বলেন লেক্সমি রাজীব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য