জম্মু ও কাশ্মিরে গোলাগুলি অব্যাহত রেখেছে ভারত ও পাকিস্তান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি চেনাব অঞ্চলে পাকিস্তান ও ভারত পরস্পরকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত চলমান গোলাগুলির কারণে জম্মু ও কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি ২০টিরও বেশি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কাছাকাছি অঞ্চল থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এক্সপ্রেস ইউকে জানিয়েছে, ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনারকে ডেকে নিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জম্মুর সুঞ্জওয়ানের একটি সেনাঘাঁটিতে হামলাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পুঞ্চ ও রাজৌরি জেলায় নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বিভিন স্থানে ভারত ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণ হয়।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, সকাল পৌনে ৯টায় পাকিস্তানের দিক থেকে গুলিবর্ষণ শুরু হলে পাল্টা গুলিবর্ষণের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে জবাব দিয়েছে ভারতীয় বাহিনী। সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভিম্বারগলি সেক্টরে পাকবাহিনী বিনা প্ররোচনায় ছোট ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের সাহায্যে গুলিবর্ষণসহ মর্টার হামলা চালায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানি বাহিনী মাঞ্জাকোট, নিয়াকা পাঞ্জগ্রিয়ান, লাম্বিবাড়ি ও বালাকোট এলাকাতেও মর্টার নিক্ষেপ করেছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে রাজৌরি জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর জেনারেল ড. মোহাম্মদ ফয়সাল ভারতীয় দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার জেপি সিংহকে ডেকে পাঠান। পরে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘২৭ ফেব্রুয়ারি নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতীয় দখলদার বাহিনী অনর্থক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে নিকিয়াল সেক্টরে ১৩ বছরের এক বালককে শহীদ করেছে।’ এই ঘটনায় জেপি সিংহকে ডেকে নিয়ে ড. মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে জানানো হয় ওই বিবৃতিতে।

এই মাসের শুরুর দিকে জম্মু ও কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ের শেষ টানতে আলোচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ কোনও বিকল্প হতে পারে না। রক্তক্ষয়ের শেষ টানতে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা জরুরি।’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি জানি আজ রাতে সংবাদ উপস্থাপকরা আমাকে ‘অ্যান্টি ন্যাশনাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করবেন, তবে আমি তার পরোয়া করি না।

মুফতি মেহবুবা বলেন, জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণ ভোগান্তিতে রয়েছে, আমাদের কথা বলতে হবে কেননা যুদ্ধ কোনও বিকল্প নয়।

সম্প্রতি চিরবৈরী ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা বেড়েছে। পাল্টাপাল্টি গুলির ঘটনায় দুই পক্ষের প্রাণহানিও বেড়ে চলেছে। ভারত ও পাকিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা শুরুর পর শ্রীপুরের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোর বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এরইমধ্যে এক হাজারেরও বেশি গ্রামবাসী নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছেড়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য