অর্থনৈতিক মন্দা শুরুর কয়েক মাস আগে থেকে নারীদের গর্ভধারণের হার কমে যায় বলে মার্কিন গবেষকদের এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

গবেষকরা বলছেন, গর্ভধারণের হার দেখে অর্থনৈতিক মন্দার ধারণা পেতে সুবিধা হতে পারে।

এতদিন যেসব সূচক ব্যবহার করে অর্থনৈতিক অবস্থা সম্বন্ধে পূর্বাভাস দেওয়া হত গর্ভধারণের হার তার চেয়েও বেশি নির্ভুল বলে দাবি তাদের।

গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের গত তিনটি মন্দার আগের সময়গুলোতে গর্ভধারণের ক্রমবর্ধমান হার বন্ধ হয়ে হ্রাস পেতে শুরু করে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে আগে থেকে সঠিক পূর্বাভাস দিতে না পারায় অর্থনীতিবিদরা প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়েন। নির্ভুল চিত্রের জন্য তারা এখন উৎপাদনের পরিমাণ, খুচরা বিক্রয় ও বাড়ির দামের মত চিরাচরিত জটিল হিসাবের বাইরে তাকাচ্ছেন।

“আমাদের মনে হয়েছে, গত তিনটি মন্দার পেছনে যেসব কারণ বর্তমান ছিল সেগুলো গর্ভধারণের সিদ্ধান্তেও গভীর ও ত্বরিত প্রভাব ফেলেছিল। কার্যত, এই কারণগুলো অর্থনীতির বড় অংশের ওপর প্রভাব ফেলার আগে গর্ভধারণের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলে বলে আমাদের মনে হয়েছে,” সারসংক্ষেপে এমনটাই বলেছেন ওই গবেষকরা।

‘ইজ ফার্টিলিটি এ লিডিং ইকোনমিক ইন্ডিকেটর?’ শীর্ষক এ গবেষণায় ১৯৮৯ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ১০ কোটি জন্মের পরিসংখ্যান নিয়েছেন গবেষকরা, এর মধ্যে গর্ভপাতের সংখ্যাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

শিশুজন্মের হার সাম্প্রতিক সময়ে কমে এসেছে এমনটা স্বীকৃত হলেও গবেষক ডেনিয়েল হাঙ্গারম্যান, কেসি বাকলস ও স্টিভেন লুগার দেখতে পেয়েছেন, মন্দা দৃশ্যমান হওয়ার কয়েক মাস আগ থেকেই গর্ভধারণের হার কমে যায়।

“এই সম্পর্ক দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি, কেউ যে এটি আগে খেয়াল করেনি তাতেও আমরা অবাক হয়েছি,” বলেন হাঙ্গারম্যান।

গত তিনটি মন্দার শেষে গর্ভধারণের পরিস্থিতি কেমন ছিল, তারও অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন গবেষকরা; তবে ওই তথ্যগুলো থেকে পরিষ্কার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে লক্ষ করেছেন তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য