আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: নিয়মানুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একজন করে নিকাহ রেজিষ্টার রয়েছেন। ওই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রি ও নকল প্রদান এবং তালাকের মত জনগুরুত্ব পুর্ন কাজটি তিনি করে থাকেন। যাদেরকে স্থানীয় ভাবে কাজী নামে ডাকা হয়।

যার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রন করেন সরকারের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়। এসব নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে শুন্যের কোঠায় নিতে সরকারী ভাবে চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে দুই বছরে আগে লালমনিরহাটকে বাল্যবিয়ে মুক্ত জেলা ঘোষনা করা হয়েছে। কিন্তু এ বাল্যবিয়ে মুক্ত জেলা লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের প্রায়ত নিকাহ রেজিস্টার মৃত কাজী সুলতান আহমেদের ছেলে মাহমুদুল হাসান ও দুলাল মিয়ার ছেলে শরিফুল ইসলাম দুইজন নিজেকে বৈধ নিকাহ রেজিস্টার হিসেবে দাবি করায় দুর্ভোগে পড়েছেন ওই এলাকার জনগন। মাঝে মধ্যে বিয়ের আসরে দুই নিকাহ রেজিস্টারের মাঝে বাক বিতন্ডা থেকে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।

এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী বৈধ নিকাহ রেজিস্টার কে তা জানতে চেয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রেজিস্টার বরাবরে আবেদন করেছেন। কিন্তু সেই আবেদনের দুই মাস অতিবাহিত হলেও ভোগান্তি থেকে মুক্তি মেলেনি জনগনের। সাম্প্রতি সময়ে ওই ইউনিয়নের সাংকাচওড়া এলাকার তৌফিকুল ইসলামের মেয়ে তানিয়ার বিয়েতে বিতন্ডা বাঁধে ওই দুই নিকাহ রেজিস্টারের মাঝে।

স্থানীয়রা জানান, তানিয়ার বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে ওই ইউনিয়নের দীর্ঘ দিনের নিকাহ রেজিস্টার মাহমুদুল হাসানকে আহবান করেন মেয়ের বাবা তৌফিকুল ইসলাম। বিয়ের কার্যক্রম শুরু হলে নিজেকে নিকাহ রেজিস্টার দাবি করে বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে চান শরিফুল ইসলাম। ফলে উভয়ের মাঝে বাক বিতন্ডা বাঁধে।

হতচকিৎ হয়ে পড়েন বিয়ের বাড়িতে আগন্তুকরা। পরে মেয়ের বাবার দাবি মুখে দীর্ঘ দিনের নিকাহ রেজিস্টার মাহমুদুল হাসান বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন। ওই গ্রামের স্কুল শিক্ষক ফারুক হোসেন বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে নিকাহ রেজিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাহমুদুল হাসান। কিন্তু গত বছর ডিসেম্বর থেকে নিজেকে নিকাহ রেজিস্টার হিসেবে দাবি করছেন শরিফুল ইসলাম। এলাকায় কোন বিয়ে হলে দুই নিকাহ রেজিস্টারের মাঝে বাক বিতন্ডা থেকে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। তাদের মধ্য কে সঠিক তা যাচাই করতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী। দুর্গাপুর ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, ভুয়া নিকাহ রেজিস্টার শরিফুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইউপি সদস্যরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অাবেদন করেছি। কিন্তু কোন কাজে আসেনি।

নিকাহ রেজিস্টার দাবি করা শরিফুল ইসলাম জানান, গত বছর ডিসেম্বর মাসে তাকে ওই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে যোগদান পত্র দেখাতে পারেন নি তিনি।

অপর জন মাহমুদুল হাসান জানান, তার বাবা দীর্ঘ দিন এ ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার ছিলেন। নিয়মানুযায়ী পোষ্যকোটায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২০০৮ সালে বাবার পদে ছেলেকে নিয়োগ দেন কর্তৃপক্ষ। সেই থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। ভুয়া নিকাহ রেজিস্টার শরিফুলের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে অবগত করেছেন বলেও জানান তিনি।

জেলা নিকাহ রেজিস্টার সমিতির সভাপতি কাজী আব্দুস সালাম জানান, মাহমুদুল হাসান দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করছেন এবং সমিতির সদস্য। কিন্তু শরিফুল কি ভাবে নিয়োগ পেয়েছেন তা তার জানা নেই বলেও জানান তিনি। জেলা রেজিস্টার তাপস রায় জানান, তিনি নতুন এ জেলায় যোগদান করায় বিষয়টি তার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান তিনি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার থাকার কথা কিন্তু দুর্গাপুরে দুই জন থাকার বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য