পাপুয়া নিউ গিনির (পিএনজি) প্রত্যন্ত পার্বত্যাঞ্চলে বড় ধরনের এক ভূমিকম্পের সময় ভূমিধস ও ভবন ধসে ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার দেশটির পুলিশ ও হাসপাতাল কর্মীরা এ তথ্য জানিয়েছেন, তবে নিশ্চিত করা যায়নি এমন প্রতিবেদনগুলোতে ৩০ জনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

সোমবার ভোররাতে ৭ দশমিক পাঁচ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে পাপুয়া নিউ গিনির মূল দ্বীপের কেন্দ্রীয় অঞ্চলটি প্রবলভাবে কেঁপে ওঠে। এতে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চলটির খনি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ভূমিকম্পের কারণে এক্সনমোবিল কর্পোরেশন তাদের ১৯ বিলিয়ন ডলারের তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্ল্যান্টটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইল্যান্ডস প্রদেশের রাজধানী মেনদিতে দুটি ভবন ধসে ও ভূমিধসে ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে মেনদি জেনারেল হাসপাতালের এক সেবিকা জানিয়েছেন। নিহতদের মৃতদেহগুলো এই হাসপাতালটির মর্গে রাখা হয়েছে।

ওই সেবিকা বলেছেন, “লোকজন ভীত হয়ে আছে। কম্পন এখনও চলছে। কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকলেও লোকজন চারপাশে ছুটে বেড়াচ্ছে।”

মঙ্গলবার বিকেলে ৫ দশমিক সাত মাত্রার একটি পরাঘাতসহ এ পর্যন্ত বহু পরাঘাত অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ।

মেনদির পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পের সময়ই ১৪ জন নিহত হন, এদের মধ্যে তিন জন মেনদির দক্ষিণের পোরোমাতে নিহত হয়েছেন।

মেনদির পুলিশ কর্মকর্তা নারিং বোনগি বলেছেন, “ঘুমিয়ে থাকা লোকজনের ঘরবাড়ি ভূমিধসে চাপা পড়ে বিধ্বস্ত হলে তারা নিহত হন।”

পাপুয়া নিউ গিনি পোস্ট-কুরিয়ারের প্রতিবেদনে হাইল্যান্ডস প্রদেশের প্রশাসক উইলিয়াম বান্দো জানিয়েছেন, দুর্গম অঞ্চলগুলোতে ৩০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওই দুর্গম এলাকাটি রাজধানী পোর্ট মোরসবি থেকে প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।

পিএনজি-র দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানিয়েছে, প্রতিবেদনগুলো যাচাই করে দেখছেন তারা, তবে মৃতের মোট সংখ্যা নিশ্চিত করতে কয়েকদিন লেগে যাবে।

এক্সনমোবিল জানিয়েছে, তাদের স্থাপনার নিকটবর্তী বসতিগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তাদের পিএনজি এলএনজি প্ল্যান্টটির সরবরাহ ব্যবস্থা কতোটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা নির্ণয় করার চেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য