ইরানের নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে তোলা এক প্রস্তাবে রাশিয়া ভিটো দেওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে ‘একতরফা ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হাতে অস্ত্র পৌঁছানো বন্ধে তেহরানের ব্যর্থতার নিন্দা জানাতে সোমবার প্রস্তাবটি তোলা হয়েছিল, কিন্তু রাশিয়ার বিরোধীতায় তা ব্যর্থ হয়।

এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি ইরানের বিরুদ্ধে ‘একতরফা ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

“রাশিয়া যদি ধারাবাহিকভাবে ইরানকে আড়াল করতে থাকে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদেরই (এ বিষয়ে) ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি পরিষদ থেকে না পারি, তাহলে আমদেরই ব্যবস্থা নিতে হবে,” বলেন তিনি।

তবে ইরানের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা খোলাসা করেননি এ মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

রাশিয়ার এ ভিটোকে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা; কারণ দেশটি নিরাপত্তা পরিষদে ইরানকে অভিযুক্ত করতে গত কয়েক মাস ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

পাশাপাশি তিন বছর আগে তেহরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির হওয়া পারমাণবিক চুক্তি থেকেও নিজেদের প্রত্যাহারের হুমকি দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে ওবামা আমলে ওই চুক্তিটি করা হয়েছিল।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, চুক্তিটিতে ‘বিপজ্জনক ত্রুটি’ আছে, যা ঠিক করা না হলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানুয়ারিতে ইউরোপীয় মিত্রদের সতর্ক করে বলেছিলেন, মে মাসের মধ্যে যদি ইউরোপীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিটির সংশোধনী নিয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরান চুক্তি থেকে সরে আসবে।

ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে যুক্তরাজ্য সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে তোলা প্রস্তাবটির খসড়া করেছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ওই প্রস্তাবে ইয়েমেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও এক বছর বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হুতিদের ওপর দেওয়া অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় তেহরানকে দায়ী করার প্রসঙ্গও যুক্ত ছিল।

ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের ওপর ব্যবস্থা নেবে এমন প্রতিশ্রুতির কথাও সেখানে বলা হয়েছিল।

মস্কোর সমর্থন পেতে খসড়ায় জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকদের দেওয়া একটি প্রতিবেদনের আলোকে নিষেধাজ্ঞা অমান্যে ইরানের বিরুদ্ধে ‘বিশেষ উদ্বেগ’ জানানোর প্রস্তাব করা হলেও লাভ হয়নি।

১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের ১১ সদস্যের সমর্থন পেলেও রাশিয়া ও বলিভিয়ার বিরোধিতার মুখে খসড়াটি পাসের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। চীন ও কাজাখস্তান ভোটদানে বিরত ছিল।

রাশিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স, স্থায়ী এই পাঁচটি সদস্য রাষ্ট্রের কোনোটি ভিটো না দিলে নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব পাসের ক্ষেত্রে নয়টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন লাগে।

হুতিদের কাছে ইরানের অস্ত্র বিষয়ে জানুয়ারিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা; যা নিয়ে তখনই সন্দেহের কথা জানিয়েছিল মস্কো।

যুক্তরাজ্যের আনা খসড়া ব্যর্থ হওয়ার পর নিরাপত্তা পরিষদ এ সংক্রান্ত রাশিয়ার প্রস্তাব মেনে নেয়; ওই প্রস্তাবে ইরানের প্রসঙ্গ বাদ রেখেই ইয়েমেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর অনুমতি চাওয়া হয়।

রয়টার্স বলছে, ইয়েমেন ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবের ছায়াযুদ্ধ চলছে। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে; তারা ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীকে সহায়তা দিয়ে আসছে।

এর পাল্টা হিসেবে বেশ কয়েকদফা সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুতিরা; এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইরান সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ রিয়াদ ও তার পশ্চিমা মিত্রদের।

ইরান শুরু থেকেই হুতিদের অস্ত্র সরবরাহ করার কথা অস্বীকার করে আসছে।

সোমবারের ভোটের পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতিসংঘের ইরান মিশন।

‘নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা এগিয়ে নিতে এবং ইয়েমেনের সবকিছুর দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে দিতে’ ওয়াশিংটন ও লন্ডন নিরাপত্তা পরিষদকে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তাদের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য