কুুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে গৃহকর্তীর নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে এক গৃহকর্মী শিশু। নির্যাতনের শিকার শিশুর নাম ফরিদা খাতুন (১১)। সে ৪ দিন ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জানা গেছে, ৫ বছর আগে উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনির পাড় গ্রামের দিনমজুর জামাল উদ্দিনের ৬ বছরের মেয়ে ফরিদাকে বাড়ীতে কাজের মেয়ে হিসেবে নিয়ে আসে পৌরসভার ঠুটাপাইকর গ্রামের শিক্ষক দম্পত্তি ফুলবাড়ী মহিলা কলেজের প্রভাষক হাবিবুল হক জামিল ও উত্তর সুখাতী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাহমিনা বেগম।

এরপর থেকে কাজে সামান্য পরিমাণ ত্রুটি হলেই প্রায়ই তার কপালে জুটত বকুনী ও চর থাপ্পর। সময়ের সাথে শিশুটি বড় হতে থাকলে তার উপরে নির্যাতনের মাত্রাও বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে তা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছালে সম্প্রতি সে দিনমজুর বাবার বাড়ীতে ফিরে গিয়ে বিষয়টি জানায়।

গৃহকর্তী তহমিনার বাবার বাড়ী ও শিশুটির বাড়ী একই গ্রামে হওয়ায় কয়েকদিন পরে ওই শিক্ষক দম্পত্তি শিশুটির বাবা-মাকে বুঝিয়ে শিশুটিকে পুনরায় তাদের বাড়ীতে নিয়ে আসে। প্রথম কয়েকদিন ভালো ব্যবহার করলেও পরবর্তীতে আবারো শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন।

গত শুক্রবার বিকেলে গৃহকর্তী তহমিনা বেগম সামান্য কারনে শিশু ফরিদাকে প্রচন্ড মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। ক্ষতস্থান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। সন্ধ্যায় অবস্থার অবনতি ঘটলে শিক্ষক দম্পত্তি মৃতপ্রায় শিশুটিকে নাগেশ^রী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠায়।

অবস্থা আরও আশংকাজনক দেখে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল থেকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় হসপাতালের শিশু বিভাগের ১৮নং ওয়ার্ডে ভর্তি করে রেখে পালিয়ে যায় ওই দম্পত্তি। এখন পর্যন্ত তারা পলাতক রয়েছে। এদিকে শিশুটির মৃত্যুর খবর শুনে তার বাবা জামাল উদ্দিনসহ পরিবারের লোকজন নাগেশ^রী থানায় গিয়ে মৌখিক অভিযোগ করে।

নাগেশ^রী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির উল ইসলাম বলেন রাতেই পৌরসভার ঠুটাপাইকর গ্রামে ওই শিক্ষক দম্পত্তির বাড়ীতে গিয়ে জানা যায় নির্যাতনের শিকার শিশুটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তবে এসময় বাড়ীতে ছিলেন না ওই শিক্ষক দম্পত্তি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় মামলা দায়ের করেনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য