বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ঘৌটার বিমান হামলায় রাসায়নিক গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন হোয়াইট হেলমেটস-এর স্বাস্থ্যকর্মীরা। দামেস্কের কাছে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ঘৌটায় এক সপ্তাহ ধরেই বিমান হামলা চালাচ্ছে আসাদ বাহিনী। হোয়াইট হেলমেটস-এর দাবি, সেখানে ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহার হয়েছে।

হোয়াইট হেলমেটস নামে দেশটির সিভিল ডিফেন্স জানায়, অন্তত একজন শিশু ক্লোরিন গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সিরিয়ার বিরোধী দলের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানায়, হামলার শিকারদের মধ্যে বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাসে আক্রান্ত হওয়ার আলামত মিলেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, অন্তত ১৮ জনকে অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজন নারী ও শিশুরও নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলে জানায় হোয়াইট হেলমেটস।

পূর্ব ঘৌটায় প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস। ২০১৩ সাল থেকে এলাকাটি বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে। রাজধানী দামেস্কের কাছে অবস্থিত এটিই সর্বশেষ এলাকা, যেটি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকাটির পুনর্দখল নিতে চলতি মাসের শুরুর দিকে অভিযান জোরালো করে সরকারি বাহিনী। এতে শত শত মানুষ হতাহত হয়।

সম্প্রতি ১ হাজার ২৪৪ সম্প্রদায়ের ৫৬ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তার স্বার্থের কথা উল্লেখ করে নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির একটি খসড়া প্রস্তাব আনে কুয়েত ও সুইডেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে রাশিয়ার স্বার্থগত বিরোধে সেই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি পিছিয়ে যায় কয়েকবার। অবশেষে, শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরীয় অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব অনুমোদন পায়। ত্রাণ ও চিকিৎসা সরবরাহে ৩০ দিনের অস্ত্রবিরতির ব্যাপারে একমত হয় সংস্থাটির স্থায়ী-অস্থায়ী ১৫ সদস্য রাষ্ট্রই।

তবে ব্রিদ্রোহী ও ত্রাণ সংস্থার সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, অস্ত্রবিরতি প্রস্তাব পাসের পরও সেখানে সরকারি বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত আছে। ত্রাণ সংস্থা দ্য সিরিয়ান আমেরিকান মেডিক্যাল সোসাইটি বিবিসিকে জানায়, ওই এলাকার একটি হাসপাতালে আগত রোগীদের কয়েকজনের মধ্যে রাসায়নিক হামলার শিকার হওয়ার আলামত রয়েছে। এক শিশু মারা গেছে বলেও জানিয়েছে তারা।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাটইটস জানায়, তারাও একই ধরনের তথ্য পেয়েছে, তবে এটি গ্যাস হামলা কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চলতি মাসের ৫ তারিখেও আসাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে রাসায়নিক হামলার অভিযোগ উঠেছিল। হোয়াইট হেলমেটস জানিয়েছিল, সরকারি বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে ‘ক্লোরিন বোমা’ নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর আগে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ সংস্থার যৌথ তদন্তে প্রমাণিত হয়, আসাদ সরকার ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে অন্তত তিন দফায় নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর ক্লোরিন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া গত এপ্রিলে আসাদ বাহিনীর সারিন গ্যাস হামলায় নিহত হন ৮০ জনেরও অধিক ব্যক্তি। তবে সরকারিভাবে বরাবরই রাসায়নিক হামলার খবর অস্বীকার করে আসছে সিরিয়া। এসব হামলার জন্য উল্টো বিদ্রোহীদেরই দায়ী করছে তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য