সিরিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের আফরিনে চলমান লড়াই জোরদার করতে পুলিশের বিশেষ বাহিনী পাঠাচ্ছে তুরস্ক। গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা তুরস্কের কুর্দি বিরোধী অভিযানে যোগ দেবেন তারা। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার ‘নতুন যুদ্ধে’ সামিল হতে ওই বাহিনী আফরিনে গেছে। সেখানে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি ওয়াইপিজির বিরুদ্ধে ২০ জানুয়ারি থেকে অভিযান শুরু করেছে। আফরিনের দুইটি অঞ্চলে জেন্ডারমেরি ও পুলিশের বিশেষ বাহিনী অবস্থান নিয়েছে। আফরিনের বেশিরভাগ এলাকাই ওয়াইপিজির দখলে।

তুর্কি উপপ্রধানমন্ত্রী বেকির বোজড্যাগ বলেন, ‘নতুন লড়াইয়ের জন্য আমরা বিশেষ বাহিনী পাঠাচ্ছি।’

গত ২০ জানুয়ারি থেকে কুর্দি বিদ্রোহীদের বিতাড়িত করতে সেখানে অভিযান শুরু করে আঙ্কারা।কুর্দিস্তান ওয়ার্কাস পার্টিকে (ওয়াইপিজি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে আঙ্কারা। তুরস্কে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কুর্দিস্তান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সশস্ত্র এই শাখাটির হাতে রয়েছে তুরস্কের সীমান্তবর্তী সিরিয়ার শহর আফরিনের নিয়ন্ত্রণ। সেখান থেকে তাদের বিতাড়িত করতেই আফরিনে ‘অপারেশন অলিভ ব্রাঞ্চ’ নামে তুরস্কের এই অভিযান।

শনিবার তুরস্ক দাবি করেন, সিরিয়ায় জাতিসংঘের ৩০ দিনের অস্ত্রবিরতি তাদের ‘অপারেশন অলিভ ব্রাঞ্চে’র ওপর প্রভাব রাখে না। সরকারি মুখপাত্র জানান, সিরিয়ায় পূর্ব ঘৌটা জাতিসংঘের অস্ত্রবিরতির আওতায়। কিন্তু আফরিন সেই এলাকাভুক্ত নয়।

জাতিসংঘের অস্ত্রবিরতি আইএস ও আল-কায়েদার মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর হবে না। তুরস্ক জানায়, কুর্দিস্তান ওয়ার্কাস পার্টি (পিকেকে) এরই একটি অংশ হচ্ছে ওয়াইপিজি। তারা ত্রিশ বছর ধরে তুরস্কে বিদ্রোহ চালিয়ে আসছিলো। পিকেকে গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে সিরিয়া যুদ্ধে অন্যতম মার্কিন মিত্র হলো ওয়াইপিজি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য