মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে অন্তত ১৫ জন তুর্কি নারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ইরাকের একটি আদালত। তাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, এরা সবাই আইএসের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে অন্তত একজন সরাসরি পুরুষের পাশাপাশি যুদ্ধ করার স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।

ইরাকের ‘হাই জুডিশিয়াল কাউন্সিলের’ মুখপাত্র আব্দুল সাত্তার আল-বিরাকদার বলেছেন, ‘বিচারে মৃত্যুর সাজা পাওয়া এসব নারীরা আইএস সদস্যকে বিয়ে করা থেকে শুরু করে কৌশলগত সাহায্য করা, এমন কি সরাসরি হামলায় অংশগ্রহণের মতো দোষ স্বীকার করেছে।’

গত শনিবার রায় জানতে এসব নারীরা আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাদের ব্য়স ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। এদের চারজনের শিশু সন্তান রয়েছে। একজন ইরাকি কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন নারী আইএসয়ের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি সরাসরি ইরাকি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কথা স্বীকার করেছে।

অভিযুক্তদের আইনজীবী তার যুক্তিতে বলেছেন, ‘এসব নারীদের ফাঁদে ফেলে আইএস নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’ এই নারীরা তাদের ঘোষিত শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য একমাস সময় পাবেন।

এ মাসের শুরুর দিকেও একজন তুর্কি নারী সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, জানিয়েছে বিবিসি। গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গত বছর ফাঁসি হয়েছিল আইএসের যোদ্ধা এক রুশ নাগরিকের। ইরাকের সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী ইসলামিক স্টেটের সাথে জড়িত যে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়, সে যদি সরাসরি যোদ্ধা নাও হয়ে থাকে। ইরাক ইতোমধ্যে প্রায় ৫৬০ নারী জঙ্গিকে সাজা প্রদান করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য