নীলফামারীতে তিস্তার তীরবর্তী নদীগুলোর বুকে চাষাবাদ হচ্ছে ইরি- বোরো সহ নানান জাতের ফসল। বীজতলা সংকটের কারণে কৃষকরা তা সংগ্রহ করছেন বিভিন্ন হাট বাজার থেকে। জলঢাকা উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী সমুহে পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে বর্তমানে নদীগুলোর পরিনত হয়েছে মরুভূমিতে।

উজান থেকে নেমে আসা পানির শ্রোতের পলিতে নদী গুলো যেন ভরাট হয়েছে। পানি প্রবাহ না থাকায় যে টুকো আছে সে টুকোও হারিয়ে যাচ্ছে মানচিত্র থেকে। যা দেখে বোঝার কোন উপায় নেই যে, এই নদী এক সময় খরস্রোতা ছিলো। শুকনা মৌসুমে এসব নদীর বুকে স্হানীয়রা ইরি- বোরো সহ বিভিন্ন জাতের ফসল চাষাবাদ করছেন।

একটি সূত্র জানায়, ৫ যুগ আগেও নদীগুলো ছিলো বহমান। সারা বছরই এসব নদী প্রবাহিত হত যদুকুলপতি ছাপিয়ে। ছিলো বাঙ্গালীর চিরচেনা নদীর রুপ। সে সময় নদী সমুহে চলাচল করতে পারতনা নৌকা। কিন্তু বছরের পর বছর উজান থেকে পানির শ্রোতে নেমে আসা পলিতে ভরাট হয়ে এখন পরিনত হয়েছে বালু চরে। তাই ওইসব নদীর বুকে বেসরকারি এনজিও সংস্থাদের পরামর্শে শুকনো মৌসুমে চাষাবাদ করা হচ্ছে বিভিন্ন ফসলের। এদিকে নদী সমুহ ভরাট হওয়ার ফলে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

বর্ষা মৌসুমে ওইসব নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতো তিস্তা পাড়ের মানুষ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার তীরবর্তী ডালিয়া বাইশ পুকুর, জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের ওইসব নদীর বুকে চাষাবাদ হচ্ছে আলু, মরিচ, ভূট্টা, বোরো, পিয়াজ, বাদাম সরিষা, তিল তামাক, লাউ সিম কাউন ধুনিয়া রসুন ও মিষ্টি কুমরা সহ নানান জাতের ফসল। আর কৃষকদের প্ররিশ্রমে এসব ফসল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে মানুষের চাহিদা পুরণের পাশাপশি অর্থনৈতিক ভাবে লাহবান হচ্ছে চর এলাকার খেটে খাওয়া দরিদ্র কৃষকরা।

চরের চাষাবাদ কারী কৃষক বেলাল জানায়, নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়া জমিগুলো আবার জেগে উঠায় আমরা বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করতে পারছি। চলতি বোরো মৌসুমে কোল্ড ইনজুরীতে আক্রান্ত হয়ে বীজতলা নষ্ট হওয়ার কারণে কৃষকরা বিভিন্ন হাট বাজার থেকে সংগ্রহ করছেন বোরো ধানের চারা। সংকট তীব্র হলে জেলার বাহিরে থেকে বীজতলা আমদানি করতে হয় বলে জানিয়েছেন সংশি¬ষ্টরা। অন্যদিকে এখনো কয়েক’শ হেক্টর জমিতে চারা লাগানোর বাকী আছে। জানা গেছে, গত দুই মাসে টানা শৈত্য প্রবাহের কারণে কৃষকের রোপনকৃত চারা নষ্ট হওয়ায় বীজতলার তীব্র সংকট দেখা যায়। সেই কারণে গড়ে উঠেছে এ বীজতলার হাট।

পৌর শহরের থানা মোড় প্রেসক্লাব সংলগ্ন এ হাটে বিভিন্ন জাতের চারা বেচা কেনা হচ্ছে। বীজতলা কিনতে আসা রহমত আলী জানান, কুয়াশার কারণে চারা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এখন এক বিঘা জমির জন্য হাইব্রীড জাতের ১৫০ টি বীজতলার আঁটি ৮ শত টাকায় কিনলাম। কৃষক মনোয়ার হোসেন জানায়, আলু উঠিয়ে সেই জমিতে বিআর -২৯ জাতের চারা লাগানোর জন্য হাটে এসেছি। চারা বিক্রেতা জ্বালাল উদ্দিন জানান, আমরা বীজতলা সংকটের কারণে বগুড়ার মোকামতলা থেকে চারা আমদানি করছি।

আমাদের এখানে বিআর-২৮,২৯ সহ বিভিন্ন প্রজাতির হাইব্রীড চারা বেচা কেনা হচ্ছে। আর এক ব্যবসায়ী জয়নাল জানিয়েছেন, এক মাস ধরে আমরা চারা বিক্রি করে আসছি। এমন দিনও গেছে ১৫/২০ হাজার টাকারও বেশি চারা বেচা কেনা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, আবহাওয়া জনিত কারণে বোরো চারার এই বিরম্বনা ছিল। তবে ভয়ের কিছু নেই, আশঙ্কা কেটে গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য